
X
সরকারি সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে অবিরাম কাজ করছেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম। দেশের সাধারণ জনগণের দোড়গোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ সরকারি সকল সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাধারণ জনগণের জন্য প্রকৃত সেবায় নিয়োজিত থাকেন। তাদের স্বাভাবিক দায়িত্বের বাহিরে গিয়েও অনেক সময় যখন সরকারি কর্মকর্তাগণ সাধারণ জনগণকে ভালো রাখার চেষ্টায় দিনরাত অবিরাম পরিশ্রম করেন। এমনই একজন জনগণের আস্থার প্রতীক সাদা মনের মানুষ সৎ নির্ভীক নিষ্ঠাবান ইউএনও নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম।
একজন কর্মঠ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাই পারেন শ্রম ও সুদক্ষতার মাধ্যমে একটি অঞ্চলের আমুল পরিবর্তন করতে। তার বাস্তব উদাহরণ হচ্ছেন বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম। তার একের পর এক কার্যকর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বদলে যাচ্ছে কংশ নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চিত্র। এখানে তিনি স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা তহবিলসহ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবসময়। ফলে সকলের কাছেই তিনি মানবিক ইউএনও হিসেবে বেশি পরিচিত।
জানা যায়, ২০২১ বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন তিনি। যোগদান করার পর বাল্যবিয়ে রোধ, মাদকের বিস্তার রোধ, ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। অনগ্রসর এই জনপদের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য আর শিক্ষার উন্নতির জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে সব মহলে প্রশংসিত হয়েছেন। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। রাতের আঁধারে অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের বাড়ি গিয়ে খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছন। অসুস্থ, দুর্ঘটনায় বিপদগ্রস্তদের সহযোগিতাসহ উপজেলার উন্নয়ন তহবিল, রাজস্ব তহবিল, কর্মসৃজন কর্মসূচি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ সামাজিক নিরাপত্তার প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে যাচ্ছেন।
আসমা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম খান ছন্দু বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছেন। এমন নিষ্ঠাবান, কর্মঠ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ইউএনও অতীতে খুব কম পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে ভূমিহীন পরিবারকে গৃহনির্মাণ ও উপহার প্রদানে কাজ করে ভূমিকা রাখছেন।
তিনি এই উপজেলায় যোগদানে পর থেকেই সেবা এবং কাজের মাধ্যমে বারহাট্টাবাসীর ভালোবাসা জয় করে যাচ্ছেন। যদিও তিনি যোগদানের পর হতে সহকারি কমিশনার (ভূমি) পদটি বেশিভাগ সময়ই ফাঁকা থাকে। সে কারণে তাঁকে একদিকে ইউএনও অফিস অপরদিকে ভূমি অফিসে কাজ করতে হয়। তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণের মনের কথা বলতে পারে তাঁর অফিস কার্যালয়ে। দেশে মহামারি করোনা কালীন সময় তিনি সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য ছুঁটে বেড়িয়েছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ছুঁটেছেন উপজেলার সাধারণ অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত আশ্রায়ণ প্রকল্পের আওতায় হত-দরিদ্র ভূমিহীন মানুষের জন্য বরাদ্দৃকত নির্মাণাধীন ঘরগুলোর কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করাসহ ঘর হস্তান্তরে অগ্রণী ভুমিকা রেখেছেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নিয়ে সার্বক্ষণিকভাবে সকল বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। করোনায় ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সচল করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের অপরাপর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারের ঘোষিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের সকল দপ্তরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ভূমিকা ছাড়াও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিয়েছেন।
বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমাদ বাবুল বলেন, এলাকার দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্য করার জন্য চালু করেছেন তিনি শিক্ষাবৃত্তি। এ বৃত্তি তহবিল থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হবে।এই অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ও রয়েছে আরও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে পুরো উপজেলার সকল ইউনিয়নের কার্যক্রম।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে দিনরাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। তারপরও আমাকে একদিকে ইউএনও অফিস অপরদিকে ভূমি অফিসে কাজ করতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে প্রদত্ত মানবিক সহায়তা সঠিকভাবে অসহায়-গরীব মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। সরকারি-বেসরকারী উন্নয়নমূলক কাজসমূহ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ এবং পরিদর্শন করতে হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারের সুবিধাসহ অন্যান্য কার্যক্রমগুলো মানুষজন সঠিকভাবে পাচ্ছে কিনা তা তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
ইউএনও, এস এম মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকেই এসব উন্নয়নমূলক কাজ আমাদের করতে হয়। বারহাট্টা উপজেলার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকসহ সকল গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আমাকে সর্বোচ্চ সহায়তা করছেন। তাই যতটুকু পেরেছি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যতদিন বেঁচে আছি আমার উপর দেওয়া সরকারের অর্পিত দায়িত্ব আমি সঠিক ভাবে পালন করে যাব ইনশাআল্লাহ।
-বাবু/এ.এস