প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২, ৮:০২ পিএম (ভিজিট : ৩৬৫)

X
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিজিবি ও বিএসএফ’র সীমান্ত সম্মেলন উপলক্ষে শূণ্য রেখায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লাল গালিচা বিছিয়ে রাখায় আমদানী রপ্তানী বাণিজ্য ব্যাহত ও আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিসের যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছে।
সড়কে লাল গালিচা থাকায় আগরতলা অভিমুখি যাত্রীবাহী একটি বাস তিন ঘন্টা আটকা পরে। এতে বৃদ্ধ নারী-পুরুষ সহ শিশুদের মারাত্মক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। ক্ষুব্ধ বাস যাত্রীরা ইমিগ্রেশন এলাকায় বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানায়। যাত্রীদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে বিকাল ৫টায় গালিচা সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিবিজি। পরে ২১ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি আগরতলা প্রবেশ করে।
এদিকে সড়কে লাল গালিচা থাকায় সকাল থেকে আমদানী-রপ্তানীর পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বিজিবি। এতে মাছসহ অন্যান্য পণ্যের ট্রাক প্রায় ৭ ঘন্টা আটকা পরে। পচনশীল দ্রব্য মাছ সময় মত রপ্তানী করতে না পারায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পরে ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ জানালে বিকাল ৫ টার দিকে লাল গালিচা সরিয়ে নিলে আমাদানী রপ্তানী স্বাভাবিক হয়। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আখাউড়া স্থল বন্দর এলাকায় বিজিবির বিওপিতে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর সেক্টর পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে বিএসএফ কে স্বাগত জানাতে চেকপোষ্টের শূণ্য রেখায় প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ সড়কে লাল গালিচা বিছায় বিজিবি।
এছাড়াও সড়কের দুই পাশে ফুলের টব এবং রং বেরংয়ের নিশান টানানো হয়। সড়কে গালিচা থাকায় সকাল থেকে আমদানী-রপ্তানীর পণ্যবাহী ট্রাক পাঠাতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আগরতলাগামী রয়েল মৈত্রী বাসটি বেলা ২টার দিকে আখাউড়া চেকপোষ্টে এসে পৌঁছে। কিন্তু সড়কে গালিচা থাকায় বাসটিকে যেতে দেয়নি বিজিবি। বন্দরের মৎস্য রপ্তানীকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া বলেন, আমরা রাষ্ট্রীয় যে কোন কাজকে সাধুবাদ জানাই। আজকে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মাছ ভারতে রপ্তানী করার কথা ছিল। মাছগুলি সকাল ৯টায় আগরতলায় পৌঁছানোর কথা। বিজিবি কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত আমরা। প্রায় ৭ ঘন্টা পর বিকাল ৪টার দিকে বিজিবি মাছ ভারতে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছে। এতে মাছের গুণগত মান নষ্টের পথে। আগরতলার ব্যবসায়ীরা এ মাছ নিতে অনিহা প্রকাশ করেছে। আমরা অনেক অনুরোধ করে মাছগুলি পাঠিয়েছে। বিজিবি যদি আমাদেরকে আগে জানাতো আজকে রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম আছে তাহলে আজকে আমরা প্রয়োজনে রপ্তানী বন্ধ রাখতাম। তারা আমাদেরকে না জানিয়ে ব্যবসায়ীদের এত বড় ক্ষতি করাটা মোটেও ঠিক হয়নি বলে আমি মনে করি।
বাস যাত্রী ভারতীয় নাগরিক জ্যোর্তিময় রায় অভিযোগ করেন, আমাদের বাস আটকে রেখে প্রোগ্রাম করা হচ্ছে। মিটিং চলতেই পারি। কিন্তু যাত্রীরা তো সাফার করতে পারে না। আমাদের মধ্যে বয়স্ক নারী ও বৃদ্ধ লোক আছে। অনেক অফিসার আছে। অনেকে ট্রেন ধরবো, আমরা ট্রেন মিস করবো। কেউ আমাদের কথা শুনছে না। আরেক নারী যাত্রী বলেন, আড়াই ঘন্টা আগে আমাদের বাস চেকপোষ্টে এসে পৌঁছেছে। এখানে আমাদের গাড়ি আটকে আছে। আমাদের নানা রকম সমস্যা হচ্ছে। ওয়াশ রুমে যেতে পারছি না। বেশ কিছু মহিলা আছে। তাদের কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি ৬০ ব্যটালিয়নের অধিনায়ক ল্যাঃ কর্ণেল আশিকুর রহমানকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
বাবু/জেএম