সিত্রাংয়ের তান্ডবে ভেঙে গেছে আলফাডাঙ্গার ভাসমান সেতু

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার ভাসমান সেতুটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম ভাসমান সেতু।

2022-10-27T00:35:44+00:00
2022-10-27T00:35:44+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সিত্রাংয়ের তান্ডবে ভেঙে গেছে আলফাডাঙ্গার ভাসমান সেতু
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২, ১২:৩৫ এএম   (ভিজিট : ২২৬)
X

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার ভাসমান সেতুটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম ভাসমান সেতু। সেতুটির রেলিং ও পাটাতনে ক্ষতি হয়েছে বেশি।

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, টিটা-পানাইল, রায়ের পানাইল, শিকরপুর, ইকড়াইল ও কুমুরতিয়া গ্রামের চারপাশে মধুমতি নদী বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রামগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ওই ৬ গ্রামে অন্তত ১২-১৩ হাজার লোকের বসবাস। বংশ পরম্পরায় তাদের বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার হতে হতো। এতে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। ২০২০ সালে দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে ওই এলাকার ৭০ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করে নির্মাণ করেন ভাসমান সেতুটি। ২০২০ সালের ২৯ মার্চ সেতুটি উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্লাস্টিকের ব্যারেল আর স্টিলের পাত দিয়ে ভাসমান এ সেতুটি তৈরি করা হয়েছে। ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ সেতুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮৫২টি প্লাস্টিকের ড্রাম ও ৬০ টন লোহা। পরে দুই পারে কংক্রিটের সংযোগ সেতুর সঙ্গে ভাসমান কাঠামোটিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা মো. রেজওয়ান হোসেন জানান, বর্তমানে সেতুটি দিয়ে চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ঝড়ে সেতুটির রেলিং ও পাটাতনের বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি মেরামতের পর চালু করতে কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন। টাকা জোগাড় হলে সেতুটি মেরামত করা সম্ভব। তবে টাকার অভাবে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে কলেজ, উচ্চবিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পোস্ট অফিস রয়েছে। নানা প্রয়োজনে মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। বহু আবেদন-নিবেদন করার পরও ওই স্থানে কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় তারা টিটা খেয়াঘাট এলাকায় চার টন ক্ষমতাসম্পন্ন এ ভাসমান সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। গত সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড়ে সেতুটির রেলিং, পাটাতনসহ বিভিন্ন ক্ষতি হয়। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে পারাপার একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে সেতুটি মেরামত ও চালু করতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে টাকার জোগাড় করতে হবে। যতদিন টাকার জোগাড় করা সম্ভব হবে না, ততদিন সেতুটি বন্ধ রাখতে হবে। তবে কবে নাগাদ সেতুটি চালু হবে তা বলা যাচ্ছে না। এতে প্রায় ছয়টি  গ্রামের ১২-১৩ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে সেতুটি ভেঙে তছনছ হয়ে গেছে। বর্তমানে সেতু দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। এটি মেরামতের জন্য অর্থ প্রয়োজন। স্থানীয় ও সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবু/এসআর





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy