প্রকাশ: শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৭:৪০ পিএম আপডেট: ২৯.১০.২০২২ ৭:৪৪ পিএম (ভিজিট : ২২৭)

X
নিজের ঠিকানা গোপন করে সুনামগঞ্জ জেলা কোটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারি শিক্ষক’ পদে চাকুরি লাভ করেন। স্ত্রী চাকুরিজীবি এমর্মেভুয়া ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন দিয়ে সেখান থেকে বদলি হয়ে আসেন নিজ জেলায়। সরকারি চাকরির বয়সকাল ১১ বছরের বেশি হলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি পুলিশ ভেরিফিকেশন-এমন অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণা বারহাট্টা উপজেলার সাহতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
মো. মমিনুল ইসলাম জেলার সদর উপজেলায় মেদনি ইউনিয়নে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত মো. সামছুউদ্দিন খানের ছেলে। তার নিজের, নানা ও শ্বশুরবাড়ি একই গ্রাম নিশ্চিন্তপুর। ভোটার তালিকা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও জানা যায়, তিনি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নেন। সেখানকার ঠিকানা ব্যবহার করে পরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি লাভ করেন এবং নিকাহনামাতে জগন্নাথপুরের ঠিকানা উল্লেখ আছে।
এ ধরণের অভিযোগে জেলা প্রাথমিক কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনায় জানা গেছে, মমিনুল ইসলাম সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার নাগরিগত্ব ও সেখানকার জন্মসনদে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারি শিক্ষক’ পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০০৯ সালের মে মাসের ৪ তারিখ জগন্নাথপুরের কবিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম কর্মস্থলে যোগদান করেন। তার স্ত্রী মোছা. নাজমা আক্তার ‘পারি মাল্টিপারপাস’ নেত্রকোনা কেন্দ্রের ‘কমিউনিটি অর্গানাইজার’ পদে কর্মরত এমর্মে প্রত্যয়নপত্রের বিপরীতে সেখান থেকে ২০১৫ সালের মার্চের ২৯ তারিখ নেত্রকোণা বারহাট্টার মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। পরে ‘অধিক্ষেত্রে’ বদলি হয়ে ২০১৮ সালের এপ্রিলের ৪ তারিখ থেকে সাহতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারি শিক্ষক’ পদে দায়িত্বপালন করছেন।
মমিনুল ইসলামের প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ে আরও দেখা যায়, চাকুরিতে দেওয়া তথ্যে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও ভোটার তালিকা ও স্থানীয়দের তথ্যমতে তার প্রকৃত বাড়ি নেত্রকোণা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে। শুধু তাই নয়, নানা ও শশুরবাড়ি একই গ্রাম নিশ্চতপুরে। এমনকি সরকারি চাকরিকাল ১১ বছরের অধিক হলেও এখনো সম্পন্ন হয়নি ওই শিক্ষকের পুলিশ ভেরিফিকেশন। জন্মনিবন্ধন (পুরাতন) জগন্নাথপুর এলাকার হলেও ভোটার তালিকা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র নেত্রকোণায়। ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন অনলাইনে সম্পন্ন করার ঘোষণা থাকলেও তা এখনো সম্পন্ন করাননি। বিদায়ী (বদলি হওয়া) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, নেত্রকোণায় তিনবছরের অধিক সময়ে দায়িত্বে থাকাকালীন প্রায় মিটিংয়ে ও বিদ্যালয়গুলোতে চিঠি দিয়ে শিক্ষকদেরকে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার জন্য বহুবার তাগিদ দিয়েছি।
প্রকৃত পরিচয় গোপনের পরেও অভিযোগের পাল্লা এখানে শেষ নয়। স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তার স্ত্রী নাজমা আক্তার ‘গৃহিনী’ এবং কখনো চাকরিই করেননি। অথচ বদলি জন্য স্ত্রীর কর্মস্থল উল্লেখ করে যে প্রত্যয়নপত্র তাতে নেই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা এবং স্বাক্ষরদাতার নামও। এ ব্যাপারে নেত্রকোণা সমবায়ের জেলা, বারহাট্টা ও সদর উপজেলা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের জানা মতে ‘পারি মাল্টিপারপাস’ নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই-এমনটাই জানান সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। মমিনুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নিশ্চিন্তপুরে ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তার চাকরিই করেননি এতথ্য নিশ্চিত করেন নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সিদ্দিক। সম্পর্কে তারই (মমিনুল) মামা।
মো. মমিনুল ইসলামের কাছে গ্রামের বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বারবার এড়িয়ে যান। পরে বদলীর জন্য স্ত্রী চাকরিজীবি মর্মে ভুয়া ও নামস্বর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা অফিস বুঝবে। অফিসের কাছে আপনি তথ্য চেয়েছেন সব তথ্য অফিসকে দিয়েছি এবং যা নেওয়ার দরকার সেখান থেকে নিয়ে নেন। এটাই আমার কথা। বারহাট্টার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মাকে বহুবার ফোন ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বাবু/জেএম