
X
কাজে আসছে না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ। বেশির ভাগ স্কুলের ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর শিক্ষকরা বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের খামখেয়ালীপনা ও তদারকির অভাবে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৪টি। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি ৩-৪) আওতায় ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মডেম-সিমসহ নানা সরঞ্জাম। এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাসে ৪০০ টাকার প্যাকেজে ২০ জিবি ডাটাও সরবরাহ করা হচ্ছে। ১টি ওয়াই-ফাই রাউটারের মাধ্যমে এ ইন্টারনেট সংযোগ সর্বোচ্চ ১০ জন শেয়ার করে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এসব শিক্ষাসামগ্রী অনেক শিক্ষক রেখেছেন নিজের বাড়িতে। এতে করে বিদ্যালয়ের শিখন-শেখানো কার্যক্রমের বাইরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইউটিউব ব্যক্তিগত ডিভাইসে ব্যবহার করে শেষ হচ্ছে সরকারি টাকায় কেনা ডাটা।
সম্প্রতি খলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কল্যাণপুর আফতাব উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হীরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কোনোটিতেই এখন পর্যন্ত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু করা হয়নি তবুও এরিমধ্যে খারাপ হয়েগেছে ল্যাপটপ আবার কোন কোন স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য নয় নিজেদের অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ল্যাপটপ। মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদানের এমন চিত্র উপজেলার প্রায় প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
রহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রজেক্টর এখনো খোলা হয়নি কিন্তু ল্যাপটপ খারাপ হয়ে আছে এক বছর থেকে। এখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যুৎসহ রয়েছে সব সুবিধা।এর পরও হচ্ছে না মাল্টিমিডিয়া পাঠদান। এই বিদ্যালয়ে একদিনও মাল্টিমিডিয়া পাঠদান হয়নি তাহলে ল্যাপটপ খারাপ হলো কি করে। এমন প্রশ্নের জবাবে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম।
কল্যাণপুর আফতাব উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইয়াকুব জানান তার বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষের সংকট যার কারণে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করতে পারছে না। প্রাক-প্রাথমিকের মত অন্য একটি শ্রেণি কক্ষে একজাস্টম্যান করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু করার কাজ শুরু করছে আগামী মাস থেকে চালু হয়ে যাবে।তবে আমাদের বিদ্যালয়ে নতুন একটি রুম করে দিলে সুবিধা হয়।
উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মাহতাব মিয়া বলেন আমাদের পর্যাপ্ত আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই। তাছাড়া আমাদের কিছু গাফিলতিতে পাঠদান হচ্ছে না। মাসিক সভায় এ নিয়ে আলোচনা করব। এখন থেকে মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদানের চেষ্টা করব।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ লুৎফর রহমান বলেন এ উপজেলায় ৫৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ইতিমধ্যে ৫১টি বিদ্যালয়ে দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ। কিছু স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কার্যক্রম চালু আছে। তবে আশানুরূপ হচ্ছে না। যে স্কুলগুলোর ল্যাপটপ খারাপ হয়ে আছে আমি নির্দেশনা দিয়েছি মেরামত করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কার্যক্রম চালু করার জন্য। খুব শীঘ্রই সব স্কুলে ডিজিটাল শিক্ষা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
-বাবু/এ.এস