
X
আগামী ৬ নভেম্বর গাজীপুর-৫ কালীগঞ্জ নির্বাচনী আসনের পূবাইল থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর হতে যাওয়া এ সম্মেলনকে ঘিরে এলাকার নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সম্মেলনের স্থান হিসেবে পূবাইল আদর্শ ডিগ্রি কলেজ মাঠকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সেখানেও বিরাজ করছে আনন্দ মূখর পরিবেশ। পুরো কলেজ প্রাঙ্গন ভরে গেছে ব্যানার আর ফেস্টুনে। শুধু কলেজ প্রাঙ্গনই নয়, কলেজের আশপাশের এলাকা ও সড়কগুলোতেও ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পুরো পূবাইল এলাকায় এখন সাজ সাজ ভাব।
সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে ব্যাপক বিচার বিশ্লেষন। কে পাচ্ছেন নতুন নেতৃত্ব? তবে নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য এরই মাঝে পদ প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিতর্কিতরা যেন না পায় দলের নেতৃত্ব। তারা মনে করেন বিতর্কিতরা দলের দায়িত্ব পেলে তৃণমুলে দলের সুনাম ক্ষুন্ন হবে। দীর্ঘদিন পর হতে যাওয়া এ সম্মেলনে সভাপতি পদ নিয়ে চলছে সবচেয়ে বেশি আলোচনা। দায়িত্বশীল এই পদটিকে ঘিরে এখনো পর্যন্ত গাজীপুর মহানগর আ’লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম জাহিদ আল মামুন ও সদস্য মো. আজিজুর রহমান শিরিষের নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে মো. মোমেন মিঞা, শাহিন মৃধা ও আমজাদ হোসেন মোল্লা, হোসনে আরা সিদ্দিকী জুলি, আলমগীর খান, মাসুদুর রহমান, এ্যাড. মুজিবুর রহমান, রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, ফজলুল হক মাস্টারের নাম শোনা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, সভাপতি পদ প্রত্যাশী এম জাহিদ আল মামুন গাজীপুর মহানগর আ’লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দলের বিভিন্ন কর্মকক্রে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও রয়েছে তার সুসম্পর্ক। সে হিসেবে তৃণমূল দলের তরুণ ও প্রবীণ নেতৃবৃন্দের কর্মীদের পছন্দের তালিকায় সভাপতি হিসেবে রয়েছে এম জাহিদ আল মামুনের নাম। অন্যদিকে, সভাপতি পদ প্রত্যাশী গাজীপুর মহানগর আ’লীগের সদস্য মো. আজিজুর রহমান শিরিষ এলাকায় সরকার দলীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন তিনি সেই দলেই যোগদান করেন। ২০১৯ সালে ঘরে ঘরে সিসি ক্যামেরা দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয় পূবাইল থানা আ’লীগ সভাপতি পদ প্রত্যাশী আজিজুর রহমান শিরিষ। পরের বছর অবশ্য ওই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। কিন্তু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে সফল না হয়ে তড়িগড়ি করে আত্মসাতের টাকা ফেরত দেন। তৃণমূলের ধারণা তিনি সভাপতি হলে পূবাইল থানা আ’লীগ সাংগঠনিকভাবে কর্মী সংকটে পড়বে।
সূত্র আরো জানায়, আজিজুর রহমান শিরিষ রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন জাসদ দিয়ে। পরে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে পূবাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বিএনপিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে আ’লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি পুনরায় আবার দল পরিবর্তন করে হয়ে যান আওয়ামী লীগার। ১৯৭৩ সালে পূবাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার পদে বিজয়ী হন শিরিষ। পরে ১৯৮৩ সালে আহসান উল্লাহ মাষ্টারের সাথে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হন। ১৯৮৭ সালে পুনরায় আহসান উল্লাহ মাষ্টারের সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। কথিত আছে সে সময় ভোট গ্রহণের দিন মেঘডুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসলে আজিজুর রহমান শিরিষ পরাজিত হওয়ার ভয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আহসান উল্লাহ মাষ্টারের উপর হামলা চালায়।
সভাপতি পদ প্রত্যাশী এম জাহিদ আল মামুন বলেন, গাজীপুরের তিন কিংবদন্তী শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার ও শহীদ ময়েজউদ্দিন যে দলের নেতা ছিলেন, আমি সেই দলের একজন কর্মী। এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তারপরও নেতৃবৃন্দ যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তাহলে আমি বিগত দিনের মতই দলেরও হয়ে একজন সক্রীয় কর্মী হিসেবে কাজ করে যাবো। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নে আমার চেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে। সম্মেলনে আরেক সভাপতি পদ প্রত্যাশী মো. আজিজুর রহমান শিরিষের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে একাধীকবার ফোন দিয়ে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার প্রতিক্রীয়া জানা সম্ভব হয়নি।
সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী মো. মোমেন মিঞা বর্তমানে গাসিক ৪১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। সাবেক ছাত্রনেতা ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী শাহিন মৃধাও বর্তমানে গাসিক ৩৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তারও এলাকায় রয়েছে বেশ পরিচিতি। সম্মেলনে আরেক সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী আমজাদ হোসেন মোল্লা বিগত দিনে পূবাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক যুবনেতা ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় তার রয়েছে অন্যরকম ইমেজ। দলের দুর্দিনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুখে-দুঃখে তিনি যোগাযোগ রাখেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন সৎ ও দক্ষ সংগঠক এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী হিসেবে গাজীপুর মহানগর আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মহিলা কাউন্সিলর হোসনে আরা সিদ্দিকী জুলি, ৪১ ওয়ার্ড আ’লীগের আহবায়ক আলমগীর খান, পূবাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান, ওই ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মুজিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক মাস্টার, সাবেক যুবলীগ ও শ্রমিকলীগ নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজেরও রয়েছে তৃণমুলে গ্রহণযোগ্যতা।
সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী সকল প্রার্থীই দায়িত্ব পেলে তৃনমূলে ত্যাগী নেতাদের জন্য কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
বাবু/জেএম