
X
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার পৌরসভার চক লেংগুড়া এলাকার বাসিন্দা দিনমজুর মৃত ওহাব মৃধার ছেলে মোঃ আলমগীর মৃধার পরিবারের জমি দখল করে জমিতে রেখেছে একেই এলাকার বাসিন্দা মৃত চুন্নু মিয়া ছেলে পাপ্পু ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী বাহিনী।
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় একটি অসহায় পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে এই এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী বাহিনী পাপ্পু বিরুদ্ধে। দখল করা জমি নিয়ে অনেক মামলা ও হয়েছে পাপ্পুর বিরুদ্ধে।
দিনমজুর পরিবারের সদস্য মো. আলমগীর মৃধা (৪০) এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানা ও দুর্গাপুর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট আদালতে মামলা আদায় করেন সন্ত্রাসী বাহিনী পাপ্পুর বিরুদ্ধে। বেদখল হওয়া জমির মালিক উপজেলার পৌরসভার চক লেংগুড়া এলাকার বাসিন্দা বাসিন্দা।
আলমগীর মৃধা এই প্রতিনিধিকে বলেন, প্রায় ৫০ কাটা জমির মালিক ছিলেন তাঁর বাবা মৃত ওহাব মৃধা। এখন একই জমি দাবি করেন এই এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী বাহিনী অহমিয়া সহ তার দলবল।এ নিয়ে ২০০৩ সালে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা ও হয়। ওই মামলায় ২০০৯ সালে আদালত তার বাবার পক্ষে রায় দেন। রায়ের বিরুদ্ধে পাপ্পু বুয়া কাগজ দিয়ে জেলা জজ আদালতে আপিল করলে সেটিও ২০১৪ সালে খারিজ হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালে আদালত একটি কমিশন গঠন করে বাদী আলমগীর মৃধার পরিবারকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যে বলে, কিন্তু কোনো অদৃশ্য কারণে তা এখনো আলমগীর মৃধাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) চক লেংগুড়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃত ওহাব মৃধার মৃত্যুর পর ওই জমির ওয়ারিশ হন তাঁর ছেলেরা আলমগীর মৃধা, সহ তার অন্য ভায়েরা। জীবিকার জন্য আলমগীর মৃধা কিছু দিন ঢাকায় ছিলেন পরিবার নিয়ে। বাড়িতে থাকতেন তার অন্য ভায়েরা। তাঁরা সকলেই দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
মৃত ওহাব মৃধার ছেলে মোঃ আলমগীর মৃধা (৪০) এই প্রতিনিধিকে বলেন, জমি বেদখল হওয়ার পর জীবিকার তাগিদে তাঁকে ও তাঁর পরিবার কে নিয়ে দিনমজুরির পাশাপাশি রিকশা ও চালাতে হয়। এবং পাশাপাশি তাঁর বাবার এসব জমির আইনি দিকগুলো দেখাশোনা করতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তাঁদের ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে আসে। আদালত জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বললেও বিবাদী মৃত চুন্নু মিয়ার ছেলে তা জোরপূর্বক দখল করে নেন। জমি দখলের সময় প্রকৃত জমির মালিক আলমগীর মৃধা ও তার পরিবারকে মারধর করে আহত করা হয়। ওই সময় আলমগীর মৃধার পরিবার কারও সহায়তা চেয়েও পাননি।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে চক লেংগুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দখল করা জমিতে পাপ্পুর লোকজন মোহড়া দিচ্ছে। সেটির পাহারা দিচ্ছেন কিছু লোক।
মৃত চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. পাপ্পু মিয়া বলেন, তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর বিবাদী হিসেবে তিনি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। তাঁর দাবি, উচ্চ আদালত তাঁর আপিল মঞ্জুর করেছেন। তবে পাপ্পু এ–সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র এই প্রতিনিধিকে দেখাতে রাজি হননি।
আদালতে আপিল মঞ্জুর হলেই জমি দখল করে ভাড়া দেওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে পাপ্পু কোনো উত্তর দেননি। তিনি বলেন ওই জমি তাঁদের ক্রয় করা। ক্রয় করা জমি মোবাইল কোম্পানিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ক্রয় করা জমি হলে কী নিয়ে আদালতে আপিল করেছিলেন জানতে চাইলে তিনি আবারও চুপ হয়ে যান। পরে পাপ্পু মিয়া এ প্রতিবেদককে তাঁর বাড়িতে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকেন।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শিবিরুল বলেন, আলমগীর মৃধা নামের এক ব্যক্তি থানায় একটি দরখাস্ত দিয়েছেন। দরখাস্তের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখার জন্য থানা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার মুঠোফোনে এই প্রতিনিধিকে বলেন, জমির প্রকৃত মালিক হচ্ছে দিনমজুর মৃত ওহাব মৃধার পরিবার। তাঁদের পক্ষে আদালতের চূড়ান্ত রায় আছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ রায় উপেক্ষা করে গায়ের জোরে দিনমজুর পরিবারের জমি দখল করে নিয়েছে। আমি এই পর্যন্তই জানি।
এই বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব উল আহসান বলেন,এই জমি নিয়ে অনেক সংঘর্ষ হয়েছে দুই পরিবারের মধ্যে কিন্তু জমির প্রকৃত মালিক হচ্ছে চক লেংগুড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত ওহাব মৃধার পরিবার কাগজ সূত্রে জানা যায়,এই জমির প্রকৃত মালিক মৃত ওহাব মৃধার পরিবার। তারপরও ঘায়ের জোরে মৃত চুন্নু মিয়ার ছেলে এই অসহায় পরিবারের জমি দখল করে রেখেছে এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
-বাবু/এ.এস