নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় যেন আত্মীয়স্বজনের পুনর্বাসন কেন্দ্র

কামরুল হাসান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

সারাবাংলা

শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী, কারো স্ত্রী, কারো ভাই, কারো ভাতিজা, কারো ভাগিনা, কারো বোনজামাই, কারো শালিকা কারো বা

2022-11-11T22:31:21+00:00
2022-11-12T00:24:43+00:00
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬
   
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় যেন আত্মীয়স্বজনের পুনর্বাসন কেন্দ্র
কামরুল হাসান, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৩১ পিএম  আপডেট: ১২.১১.২০২২ ১২:২৪ এএম  (ভিজিট : ২২৫০)
X


শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী, কারো স্ত্রী, কারো ভাই, কারো ভাতিজা, কারো ভাগিনা, কারো বোনজামাই, কারো শালিকা কারো বা দেবর একই সাথে চাকরি করছেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে এমন আত্মীয়তার সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেছে। কোন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেলে লিংক-লবিং এবং প্রভাব খাটিয়ে স্বজনদের চাকরি পেতে সহায়তা করছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়।এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মযজ্ঞে স্বজনপ্রীতির এক বলয় গড়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন হয়ে উঠেছে আত্মীয়স্বজনের পুনর্বাসন কেন্দ্র। এই স্বজনদের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহিত উল আলম এবং প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত। 

শিক্ষকদের মধ্যে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে শিক্ষক সমিতির সভাপতি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড.শেখ সুজন আলীর স্ত্রী ড.মোসাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদৌস একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃশফিকুল ইসলামের স্ত্রী নিশাত নাবিলা বঙ্গমাতা হলের সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল রানার স্ত্রী কর্মরত আছেন কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে। নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জুয়েল মোল্যার শ্যালক মোঃরাহাত হাসান দিদার কর্মরত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে।

এছাড়াও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামালের স্ত্রী আফরোজা সুলতানা দোলন-চাঁপা হলে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে, সঙ্গীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.সুশান্ত কুমার সরকারের স্ত্রী ইন্দ্রানী কর্মকার একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে, থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্ট্যাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.মোঃকামাল উদ্দীনের স্ত্রী ইসমতআরা ভূঁইয়া ইলা একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন অফিসার মোঃ আশিক সিদ্দিকির ভগ্নিপতি এ.কে. এম. আমিনুল হক চারুকলা বিভাগের সেকশন অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার রাজশ্রী সাঈদের বোন দেবশ্রী ব্যানার্জী কর্মরত আছেন রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে।

এছাড়া ভিসি দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ জাকিবুল হাসানের স্ত্রী জাহানারা নেওয়াজ স্মৃতি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সেকশন অফিসার, এবং বড় ভাই শারীরিক শিক্ষা দপ্তরে কর্মরত। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ লিয়াকত হাসানের স্ত্রী কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষক, উপাচার্য দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাহিদুল হোসেনের স্ত্রী কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে, প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী  প্রকৌশলী স্বপন কুমার শীলের স্ত্রী কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে,অগ্নিবীনা হলের সহকারী পরিচালক (অর্থ) এস এম কাউসার আহমেদের ছোট ভাই ডেমোনস্ট্রেটর হিসেবে,পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের অতরিক্ত রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) কৃষিবিদ আনিছুর রহমানের ভাই এস এম হুমায়ুন কবীর সহকারী রেজিস্ট্রার (এস্টেট) হিসেবে, মেডিকেল সেন্টারের মেডিকেল এসিস্টেন্ট মোঃ রাশেদুল আলমের ভাই সোহাগ এবং শ্যালক মোঃ রাজিবুল হাসান জনসংযোগ দপ্তরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে, ফোকলোর বিভাগের পার্সোনাল অফিসার শহীদুল ইসলাম রানার ভাই রাশেদ মিয়া পরিসংখ্যান বিভাগের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি চালক নজরুলের অপর দুই ভাই মনির (গাড়িচালক) এবং কাহারুল অফিস-সহায়ক হিসেবে,লোক প্রশাসন বিভাগের মিলন এবং তার আরও দুই ভাই এই বিশ্ববিদ্যালয়েই কর্মরত আছেন।

এছাড়াও উপরে উল্লেখিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাদেও এরকম আরও অনেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন যাদের রক্তের বা আত্মীয়তার সম্পর্কের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়েই কর্মরত আছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেখ সুজন আলী বলেন, স্বজনদের মধ্যে অনেকে চাকরি করতেই পারে, দেখার বিষয় হলো যেই পদে চাকরি করছেন সে সেই পদের যোগ্য কি না। যোগ্য হলে কোনো অসুবিধা নেই।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের সেকশন অফিসার আশিক সিদ্দিকী বলেন "আমার ভগ্নিপতি এখানে কোনো ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্কের মাধ্যমে নিয়োগ পাননি।মেধার ভিত্তিতেই তিনি নিয়োগ পেয়েছেন।"

বিষয়টি নিয়ে উপরের উল্লিখিত অধিকাংশ শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর মন্তব্য জানতে চাইলে তারা সকলেই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।  

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড.হুমায়ুন কবির বলেন "আমরা সেই বিবেচনা করে চাকরি দেইনি। যারা চাকরি নিয়েছে এটা তাদের বিষয় তবে অন্যত্র চাকরির সুযোগ থাকলে একই পরিবারের লোক একই প্রতিষ্ঠানে না আসাই ভালো।"

তবে এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর দে বলেন "অতীতে কিভাবে নিয়োগ হয়েছে সেটাতো আমার জানা নেই তবে এইরকম দৃষ্টান্ত আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখিনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে এটি বেশ আশ্চর্যের।"

-বাবু/এ.এস
















Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy