মহাদেও নদীর ইজারা বাতিল করেছে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা

সারাবাংলা

ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার মহাদেও নদী থেকে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করায়

2022-11-13T11:39:00+00:00
2022-11-13T11:39:00+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
মহাদেও নদীর ইজারা বাতিল করেছে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক
তারপরও চলছে বালু উত্তোলন
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা
প্রকাশ: রোববার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২, ১১:৩৯ এএম   (ভিজিট : ২২৬)
X


ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার মহাদেও নদী থেকে নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করায় ইজারা বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ স্বাক্ষরিত এক আদেশে উপজেলার ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও ও বিশাউতি পর্যন্ত ৬ নম্বর বালু মহালের ইজারাটি বাতিল করা হয়।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর মহাদেও নদ রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ তদন্ত করতে কলমাকান্দা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার এই ইজারা বাতিল করা হয়।

জেলা প্রসাশন সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন রোধকল্পে উপজেলা প্রশাসন চলতি বছরে ১৭ জুলাই, ১১ আগস্ট ও ৫ সেপ্টেম্বর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অর্থ জরিমানাসহ অবৈধ ড্রেজার ও পাইপ বিনষ্ট করায় হয়।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় আরও জানা যায়, ইজারাদার কর্তৃক শর্ত লঙ্ঘন করে ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে রাতের আঁধারে চুরি করে বালু ও পাথর উত্তোলন করে থাকে। এছাড়াও ‘তফসিল বহির্ভূত স্থান থেকে বালু-পাথর উত্তোলন, অনুমোদিতহীন ড্রেজার ব্যবহার, নির্ধারিত মাত্রার অধিক গভীরতায় বালু-পাথর উত্তোলন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত, বালু পরিবহনে জনগণের চলাচলে বিঘ্নসহ ইজারা চুক্তির ১৫, ১৭, ১৯, ২০, ২৭ ও ৩১ নম্বর শর্তবলির বিধিবিধান লঙ্ঘন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, খনিজ সম্পদ বিধিমালা ২০১১, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১১ এর ১১(২) অনুচ্ছেদ ৬৩ নম্বর শর্ত মোতাবেক ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও এবং বিশাউতি পর্যন্ত বালুমহালের ১৪২৯ বঙ্গাব্দের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত মেয়াদের ইজারাদেশ বাতিল করে বালুমহালটি সরকারের অনুকূলে আনয়ন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাসূত্রে জানাযায়, চলতি বছর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলমাকান্দার মহাদেও নদের ওমরগাঁও, হাসানোয়াগাঁও এবং বিশাউতি মৌজায় ৩৫.১৫ একর বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয় ৭২ লাখ ১০ হাজার টাকায়। ইজারা পান দুর্গাপুরের গুদারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. চান মিয়া নামের এক ব্যক্তি।

কিন্তু ইজারাদারের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত থেকে ইজারাকৃত নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বালু উত্তোলন না করে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী পর্যটন এলাকাখ্যাত মহাদেও, সন্নাসীপাড়া, চিকনটুপ, বড়ুয়াকোনা, পাতলাবনসহ নদের বিভিন্ন এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করে। এতে করে এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি নদের গতিপথ পরিবর্তন, নদের তীরের বাড়ি ঘর, ফসলি জমি, বাগান, স্থানীয় বাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গির্জা, রাস্তা-ঘাটসহ বেশ কিছু স্থাপনা ভেঙে যাচ্ছে।

এদিকে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মহাদেও নদ রক্ষা কমিটি, পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা, এআরএফবি, বাংলাদেশ গারো লিঙাম ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন (মেগাম) সহ স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বাংলাদেশ কারো লিঙ্গাম ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক পিটারসন কুবি বলেন, ‘মহাদেও নদের বালু আমাদের কাছে রীতিমতো দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাবশলীরা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে আমাদের আদিবাসী অনেক পরিবারের বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বাজার, রাস্তা- ঘাট ভেঙে গেছে। ইজারা বাতিল করায় আমাদের মাঝে এক ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে। এসময় তিনি সেই সাথে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসককে এই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অভিনন্দন জানান।

এব্যাপারে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ প্রতিনিধিকে বলেন, যারা শর্ত ভঙ্গ করে, ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধ ও অনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন যাবত বালু পাথর উত্তোলন করে আসছিল, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য, তদন্ত সাপেক্ষে বেশ কয়েকবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও জরিমানা আদায় এবং ড্রেজার জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এর পরও বন্ধ করেনি বালু ও পাথর উত্তোলন। বেশ কয়েক বার ইজারাদারদেরকে শর্তসাপেক্ষে লিখিত নেওয়ার পরেও বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন। এ বিষয়গুলো তদন্তে প্রতিবেদন দেওয়ার পর ইজারা বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবিকে লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যাতে করে সীমান্ত এবং দুর্গম রাস্তার ফলে চুরি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন না করতে পারে। ইজারাধার বা প্রভাবশালীরা যদি অবৈধ ভাবে বালু পাথর উত্তোলন করে তবে পরবর্তীতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy