প্রকাশ: রোববার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২, ৬:১২ পিএম (ভিজিট : ৩৩১)

X
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘরে নিম্নমানের ইট ও বালু দিয়ে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন কাজের দেখভাল করছে উপজেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ ঘুরে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের এসব ঘর নির্মাণে যে ইট, বালু, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের মিঠা ইট ও সাদা ভিটি বালু (এফএম কম থাকা) ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ঘর নির্মাণ কাজের রাজমিস্ত্রীরা জানান, ইট ও বালু’র মান ভাল না। অধিকাংশ ইটের মান ভালো না। তাহলে এসব সামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন কেন এমন প্রশ্নে জবাবে তারা বলেন আমাদেরকে যা মাল দিচ্ছে তা দিয়ে আমরা কাজ করছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় এ উপজেলায় ৬৫৩টি ভূমিহীন পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর দেয়া হবে। ইতিমধ্যে ১ম ও ৩য় দফার সম্পূর্ণ ও ২য় দফার আংশিক সহ ৩৬৫টি ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দিয়ে একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে চাবি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকী ২য় দফার ২৯০টি ভূমিহীন পরিবারকে ঘর দেয়ার জন্য ঘরের নির্মাণ চলছে। ২য় ও ৩য় দফা প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫শ’ টাকা। প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন কাজের দেখভাল করছে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন।
এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ বাস্তবায়নে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার অংগ্যজাই মারমা। ঘর নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছেন প্রকল্পের সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী। তাছাড়াও এ কমিটিতে রয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত চক্রবর্তী, উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তীকে নিম্নমানের ইট বালু দিয়ে ঘর নির্মাণ হচ্ছে বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউএনও স্যার ভাল জানেন। তার সঙ্গে কথা বলুন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অংগ্যজাই মারমা বলেন, ভালো মানের ইট, বালু দিয়ে ঘরগুলোর কাজ করা হচ্ছে। ঘরের অন্যান্য সামগ্রীও ভাল মানের কেনা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, ভাটা থেকে ২ হাজার ইটের সাথে ১৫-২০টি ইট মিঠা আসে। সে ক্ষেত্রে আমরা এগুলো আলাদা করে রেখে দেই। পরে সলিংয়ের কাজে ব্যবহার করা যায়। এই ১৫-২০ টা ইট তো আর ফেরত পাঠানো যায় না। হ্যা, যদি দেখা যায় কোনো গাড়ির ইট খারাপ আসছে। তা অবশ্যই আমরা ভাটাতে ফেরত পাঠাই। গাঁথুনীতে ভালো ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাবু/জেএম