গলাচিপায় শীতের আগমনে খেজুর গাছ কাটার ধুম

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

সারাবাংলা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় শীতের আগমনে খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য খেজুর গাছ কাটার ধুম পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায়

2022-11-20T20:25:27+00:00
2022-11-20T20:25:27+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
গলাচিপায় শীতের আগমনে খেজুর গাছ কাটার ধুম
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: রোববার, ২০ নভেম্বর, ২০২২, ৮:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৪১২)
X

পটুয়াখালীর গলাচিপায় শীতের আগমনে খেজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য খেজুর গাছ কাটার ধুম পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। রবিবার (২০ নভেম্বর) চাষীদের খেজুর গাছ কাটতে দেখা গেছে। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। 

তারপরও গাছিরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করেন। শীত আসলেই খেজুর গাছ খুঁজে বেড়ান। তারপর গাছ কেটে পুরো মৌসুমে খেজুরের রস সংগ্রহ করেন। এক সময় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে, রাস্তার পাশে তাল ও খেজুরের গাছ ছিলো। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। তাই আগের মত তেমন রস সংগ্রহ করতে পারেন না গাছিরা। গোলখালী ইউনিয়নের কিসমত হরিদেবপুর গ্রামের গাছি সোহেল মিয়া বলেন, ‘ খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হলে প্রথমে খেজুর গাছের মাথার অংশকে ভালো করে পরিষ্কার করতে হয়। 

এরপর পরিষ্কার সাদা অংশ কেটে বিশেষ কায়দায় ছোট-বড় কলসিতে (মাটির পাত্র) রস সংগ্রহ করা হয়। ছোট বড় বিভিন্ন রকমের খেজুর গাছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই আমরা কোমরে রশি (দড়ি) বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করি। প্রতিদিন বিকালে ছোট-বড় কলসি (মাটির পাত্র) গাছে বাঁধি, সকালে রস সংগ্রহ করি। কেউ কেউ কাঁচা রস এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও হাটে-বাজারে খাওয়ার জন্য বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ সকালেই এই রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করেন।’ পানপট্টি ইউনিয়নের গাছি মোকলেছ হাওলাদার বলেন, ‘বর্তমানে যে হারে খেজুর গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে, তাতে এক সময় হয়তো আমাদের এলাকায় খেজুর গাছ থাকবে না।

বাড়তি জনসংখ্যার কারণে মানুষ এখন গাছ কেটে বসত বাড়ি তৈরি করছে। আমখোলা ইউনিয়নের গাছি বাবুল সরদার বলেন, খেজুরের রস দিয়ে নানান রকম পিঠা তৈরি করা হয়। খেজুর গাছ ৫-৬ বছরের হলেই গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করা যায়। কার্তিক মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত রস আহরণ করা হয়। তবে যত শীত বেশি পড়ে তত রস বেশি হয়। গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার বলেন, আগে পতিত জমি ছিলো। সেখানে অবহেলা অযত্নে খেজুর গাছ জন্মাত। গ্রামীণ রাস্তার পাশেও সারিবদ্ধভাবে খেজুরগাছ দেখা যেত। সেসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতো। ওই খেজুর গাছ থেকে বাংলার নবান্ন উৎসবের জন্য গাছিরা খেজুর রস আহরণ করতো। মানুষের মধ্যে অসচেতনতার কারণে মানুষ গাছ কাটলেও গাছ আর লাগায় না। অন্তত পরিবেশের ভারাসাম্য রক্ষায় প্রতিটি সড়কের পাশে ও খালি জায়গায় খেজুরগাছ লাগানো উচিত।

বাবু/জেএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy