
X
নেত্রকোনার সকল উপজেলায় বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে বোরো চাষের মহোৎসব। কেউ বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলছেন, কেউবা আবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত রয়েছেন। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকলে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তবে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ছড়ার পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারের বোরো মৌসুমে খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১০ হাজার হেক্টরের কিছু বেশি জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বীজতলার হিসাব এবং মাঠ হিসাব অনুযায়ী ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। এবার ১০ হাজার ৩০০ জন কৃষককে বোরো ধানের উফসী ও হাইব্রিড বীজ দেওয়া হয়েছে। উফসী বীজের সাথে সারও দেওয়া হয়েছে বোরো চাষিদের মাঝে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ি সংলগ্ন ভিটায় ধানের চারা তুলছেন কৃষাণী ও পরিবারের শিশু-কিশোররা। পুরুষরা ঝুড়ি কাঁধে করে ধানের চারা নিয়ে যাচ্ছেন মাঠে। কেউ চাষ দেওয়া জমির ঘাস পরিষ্কার করছেন। ঘাস পরিষ্কার শেষে সারিতে লাগানো হচ্ছে ধানের চারা।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর, চাকুয়া, খালিয়াজুরী সদর, নগর, কৃষ্ণপুর, গাজীপুর, এলাকায় বোরো চাষাবাদ শুরু করেছে কৃষকরা। কোনো কোনো ইউনিয়নে দো-ফসলি জমির ওপর বোরো চাষাবাদ হয়েছে।
আবার গাগলাজুর এলাকায়ও ব্যাপক হারে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া,মাঘান সিয়াধার, শুয়াইর, বড়তলী বানিয়াহরী, বড়কাশিয়া বিরামপুর, এলাকায় আশপাশের ছড়ার পানি দিয়ে ব্যাপকভাবে এলাকায় কৃষকরা বোরো চাষাবাদ শুরু করেছে।
সরকারিভাবে কৃষি অফিস থেকে বিদ্যুৎচালিত মিটার ও ডিজেল ব্যবহার করে গভীর ও অগভীর নলকুপের পানি ব্যবহার করা হয়। জেলার প্রতিটি প্রধান সড়কের পার্শ্বে বিদ্যুৎচালিত সেচ যন্ত্র ব্যবহারকারীদের কৃষি জমিতে পানি সেচের মূল্য তালিকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এ দিকে কৃষি অফিসের দেওয়া পানির মূল্য তালিকা উপেক্ষা করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ছড়ার পানির জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে অনেকের বিরুদ্ধে। এমনকি নিয়ম উপেক্ষা করে বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত নলকূপের মালিকরা কৃষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অধিক টাকা আদায় করে নিচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় নলকূপের মালিকরা কৃষকদের জমি নিয়ে নিজেরাই জমি চাষাবাদ করছে এ অভিযোগও রয়েছে।
তবে, সাধারণ কৃষক ছড়ার পানি বিক্রির ব্যাপারে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মূল্য আদায় করার অভিযোগের এক প্রশ্নের জবাবে অনেকেই বলেন- বিভিন্ন এলাকায় সমিতির উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বাঁধ নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে এবং নির্ধারিত চাষযোগ্য জমির ওপর ভিত্তি করে কানি প্রতি ১ থেকে দেড় হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে অনিয়মের কিছুই নেই। এর পরেও অনিয়মের কোনো অভিযোগ আসলে তা আমরা সমিতির মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা নিব।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, উপজেলার কৃষকরা এখন বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঠে। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধান চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হতে পারব বলে আশা করছি। এবার ধানে লাভ পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে ধান চাষ করার আগ্রহ পাবে কৃষকরা।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার চলতি বোরো মৌসুমে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৩০০ জন কৃষককে বোরো ধানের উফসী ও হাইব্রিড বীজ দেওয়া হয়েছে। উফসী বীজের সাথে সারও দেওয়া হয়েছে বোরো চাষিদের মাঝে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের সার্বক্ষণিক তদারকি ও পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।
-বাবু/এ.এস