<
বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪ ৯ শ্রাবণ ১৪৩১
বুধবার ২৪ জুলাই ২০২৪
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০২৪, ২:২০ PM আপডেট: ১৮.০৬.২০২৪ ২:৩৬ PM
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সিলেটের নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নগরীসহ জেলার ১২টি উপজেলা। আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে পানিবন্দি মানুষ।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি গোয়াইন নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান।
সিলেট জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ৪৪ মিলিমিটার।”

মঙ্গলবার সকালে সিলেট নগরীর তালতলা, মাছিমপুর, যতরপুর সোবাহানীঘাট ও উপশহর এলাকার কোথাও কোথাও হাঁটু পানি দেখা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, “বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে যাচ্ছে।”

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলামও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তার উপজেলার বিভিন্ন সড়ক বন্যায় প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে ২৯৬ জন মানুষ তাদের গবাদি পশুসহ উঠেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার ও ত্রাণ বিরতণ করা হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও সাংবাদিক লবীব আহমদ বলেন, “কোম্পানীগঞ্জের প্রায় প্রতিটি জায়গার মানুষ পানিবন্দি। গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে ৩৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই পানি নামলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মজির উদ্দিন বলেন, “আমার উপজেলায় বন্যা পরিস্থতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বন্যার্ত মানুষরা আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছেন। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।"

সোমবার রাতে জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিলেট জেলায় ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষজন উঠতে শুরু করেছেন। সোমবার রাত পর্যন্ত জেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে ৬৯টি ইউনিয়ন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টিপাতের পানি সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা দিয়ে নামছে। গত ২৯ মে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

পরে ৮ জুনের পর থেকে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তারপর সোমবার থেকে ফের টানা বৃষ্টিতে সিলেটে আবারও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে।
« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







সোস্যাল নেটওয়ার্ক

  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সাউথ বেঙ্গল গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. আশরাফ আলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আউয়াল সেন্টার (লেভেল ১২), ৩৪ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
মোবাইল : ০১৪০৪-৪০৮৪৫২, ই-মেইল : thebdbulletin@gmail.com.
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত