এবার মানিকগঞ্জে পাওয়া গেল বিষধর ‘রাসেলস ভাইপার’ সাপ!

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মানিকগঞ্জের কিছু এলাকায় গত তিন মাসে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে অন্তত পাঁচজন মারা গেছে বলে জানা গেছে।

2024-06-03T11:45:27+00:00
2024-06-03T16:06:23+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
এবার মানিকগঞ্জে পাওয়া গেল বিষধর ‘রাসেলস ভাইপার’ সাপ!
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪, ১১:৪৫ এএম  আপডেট: ০৩.০৬.২০২৪ ৪:০৬ পিএম  (ভিজিট : ৩৮৫)
X

মানিকগঞ্জের কিছু এলাকায় গত তিন মাসে বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ে অন্তত পাঁচজন মারা গেছে বলে জানা গেছে। সাপটি (রাসেলস ভাইপার) বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। বাংলাদেশে যেসব সাপ দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিষাক্ত। 

এর আগে ২০২১ সালে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায়, বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী কয়েকটি জেলা ও চরাঞ্চলে এই সাপের কামড়ে দুই জন নিহত ও কয়েকজন আহত হবার ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিলো। কিন্তু গত কয়েক মাসে এই সাপের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে ঢাকার একেবারে কাছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চর এলাকাগুলোতে।

উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহরিয়ার রহমান বলেছেন, আমার উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে আহত হবার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। গত তিন মাসে মারা গেছে পাঁচজন। এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে। তাই আমরা কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ জুতার ব্যবস্থা করা যায় কি-না সেটি দেখা হচ্ছে।'

উপজেলার যে দুটি ইউনিয়নে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে বেশি আহত ও মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে তার একটি হলো আজিমনগর ইউনিয়ন। আজিমনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেছেন, এখন রাসেলস ভাইপারের আনাগোনা তারা বেশি দেখতে পাচ্ছেন।
এই আজিমনগরেই সম্প্রতি আরও দুটি রাসেলস ভাইপার মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার চর এলাকায় নতুন করে রাসেলস ভাইপার দেখতে পান কৃষকরা।

এর আগে গত পহেলা মার্চ ভুট্টা ক্ষেতে পানি দেয়ার সময় রাসেলস ভাইপারের কামড়ে আহত হয়ে পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন লালমিয়া নামে একজন কৃষক।

মানিকগঞ্জে কীভাবে এলো ভয়ংকর রাসেলস ভাইপার?
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেছেন, পদ্মার অববাহিকা ধরেই রাসেলস ভাইপার মানিকগঞ্জের চরাঞ্চলে গেছে। আহসান রাসেলস ভাইপারের পুনরাবির্ভাব ও এই সাপ থেকে মানুষের ঝুঁকির বিষয়ে গবেষণা করেছেন।

২০১৩ সাল থেকে এই সাপটি বেশী দেখা যাচ্ছে। পদ্মার চরাঞ্চল থেকে শাখা ও উপনদী ধরে কচুরি পানার সাথে এগুলো পাশের এলাকাগুলোতে যাচ্ছে। মানিকগঞ্জের চরে সেভাবেই গেছে বলে মনে হচ্ছে ।

লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের কাঞ্চনপুর ও ফরিদপুর সদর উপজেলার চরে সেলিমপুর এলাকায় সবশেষ সাপটি কৃষকদের দৃষ্টিতে এসেছে। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৫ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি চর এলাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা অন্তত পাঁচটি রাসেলস ভাইপার সাপ অবমুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ১৭টি জেলাতেই রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি রয়েছে। ঐ গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতেই এই সাপের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিলো যে এই প্রজাতির সাপের সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে সাপের এই প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু গত ১০-১২ বছর আগে থেকে আবারো এই সাপের কামড়ের ঘটনায় এগুলোকে আবার দেখা যাচ্ছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy