সোমবার ১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
সোমবার ১ ডিসেম্বর ২০২৫
লোহাগাড়ায় ডিলার ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মানববন্ধন
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৪ PM

খুচরা সার বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কেএসবিএবি,র আয়োজনে নীতিমালা বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

পরে মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সারাদেশব্যাপী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী পালনের অংশ হিসেবে ৩০ নভেম্বর রোববার দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলায় চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে খুচরা সার বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কেএসবিএবি,র লোহাগাড়া উপজেলার সভাপতি শামসুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে  ৮১ জন খুচরা ডিলার, শতাধিক ব্যবসায়ী ও কৃষকসহ উপস্থিত থেকে মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। এসময় বক্তরা বলেন, গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. এর সার সংক্রান্ত নীতিমালায় খুচরা সার বিক্রেতাগণকে বা খুচরা সার বিক্রেতা আইডি কার্ডধারীদের বলবৎ ও চলমান রেখে খুচরা সার বিক্রেতা এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর টি.ও নিবন্ধন পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান বক্তারা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং-১২.০০.০০০০.০০১. ৪০.০০১.২৫-১৮ মূলে সম্মিলিত সার ডিলার নিয়োগ ও সার সংক্রান্ত সম্মনিত নীতিমালা-২০২৫ বাস্তবায়ন এর লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়। উক্ত নীতিমালাটি ১৩ নভেম্বর ২০২৫ কৃষি মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় এবং উক্ত নীতিমালার মাধ্যমে দেশজুড়ে লাইসেন্সধারী খুচরা সব বিক্রেতাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে। 

এ নীতিমালা অনুসারে আলাদা ভাবে দেশে খুচরা সার বিক্রেতা বা সাব ডিলার থাকবেনা, তাই  বিদ্যমান খুচরা সার বিক্রেতাগণ উক্ত নীতিমালা জারীর পর থেকে ৩১ শে মার্চ ২০২৬ইং তারিখের মধ্যে তাদের সমূদয় দায় দেনার নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

ঐ তারিখ পর্যন্ত সাব ডিলার বা খুচরা সার বিক্রেতাগণ পূর্বের নিয়মে সার ক্রয়/বিক্রয় করতে পারবে। 

যার ফলে খুচরা ডিলার ও ব্যাবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সারাদেশের ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতারা মারাত্মক ভাবে হতাশ ও উৎকণ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিনের জীবিকা নির্ভর খুচরা সার বিক্রয় কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গেলে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়বে তারা? তাই এই নীতিমালা বাতিল এবং ২০০৯ নীতিমালা বহাল রাখার দাবীতে তারা সারাদেশব্যাপী মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচী পালন করে আসছে। 

এরই অংশ হিসাবে খুচরা সার বিক্রেতা এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কেএসবিএবি,র লোহাগাড়া উপজেলার সভাপতি  ও লোহাগাড়া দরবেশহাট শামসুল ইসলাম ট্রেডার্স,র মালিক শামসুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং কেএসবিএবির সেক্রেটারী ও পূর্ব কলাউজান মাহবুবুর রহমান ট্রেডার্স এর মালিক মাহবুবুর রহমান ও কেএসবিএবির কোষাধ্যক্ষ ও  কলাউজান হিন্দুরহাট হাবিবুর রহমান ট্রেডার্স এর মালিক হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে উপজেলার কেএসবিএবির নেতা মনছুর আলম, রাসেলসহ ৮১ জন খুচরা ডিলার, শতাধিক ব্যবসায়ী ও শতাধিককৃষকসহ আনুমানিক ৩ শতাধিক লোক উপস্থিত থেকে মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে উপজেলা কেএসবিএবি,র নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আমরা ৪৪, হাজার খুচরা সার বিক্রেতাদের অস্তিত্ব ও ৫ কোটি কৃষকের সেবা রক্ষায় সমস্যা সমাধানে এই মর্মে স্মরকলিপি প্রদান করছি যে, আমরা কৃষি প্রধান দেশে দীর্ঘ ৩০ বছরের উর্দ্ধে পৈত্রিকসূত্রে পাওয়াও স্থায়ী সুনাম অর্জন কারী প্রকৃত ব্যবসায়ী, ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি প্রদানের মাধ্যমে কাজ করছি। আমরাই সরাসরি ৩০-৪০ লক্ষ টাকা কৃষক পর্যায়ে বাকি ও পুঁজি বিনিয়োগ কারী কৃষি নির্ভর দেশে চাষের মৌসুমে চাষিদের হাতে টাকা না থাকলেও আমরা হাজার হাজার টাকা বাকিতে চাষিদের দোড়গোড়ায় সার পৌঁছে দেওয়ার মত সেবাই নিয়োজিত। সেক্ষেত্রে সকলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নীতিমালার বিষয়ে মতামত নিলে মঙ্গলজনক হবে।

তারা অত্যান্ত দুঃখের সাথে জানান যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিগত সরকারের বৈষম্য বিরোধী লড়তে গিয়ে আজ অন্তবর্তীকালিন সরকারের হাতেই আমরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছি। বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টের ও বেদনাদায়ক। বিশেষ করে যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেশের জনগণ তথা শ্রমিকদের কর্মের সংস্থান করে দেয়া কিন্তু বর্তমান কর্তৃপক্ষ উল্টো আমাদেরকে কর্মহীন করতে চায়। আমরা সামান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্ব পালন করে সামান্য যে আয় করি, তা দিয়ে আমাদের একজন কর্মচারী, দোকান ভাড়া সহ ঘর সংসারের সকল খরচ নির্বাহ করি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর ভাবে জীবনযাপন করছি। এর মধ্যে যদি আমাদেরকে কর্মহীন করে দেওয়া হয় তাহলে আমাদের পরিবার নিয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না।

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ২০০৯ নীতিমালা অনুযায়ী সার, বীজ মনিটরীং কমিটির সর্বোচ্চ যাচাই বাছাই এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৪হাজার খুচরা সার বিক্রেতা সরকারী স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রে আবদ্ধ, সরকারী কোষাগারে ৩০হাজার টাকা জামানত জমাদান এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ও উপজেলা কৃষি অফিসার স্বাক্ষরীত আই.ডি.কার্ড, লাইসেন্স গ্রহন সহ, তৃণমূলে কৃষকের দোর গোড়ায় শুধুমাত্র ন্যায্যেমূল্যে সার পৌঁছে দেওয়ার কাজে একমাত্র পেশাগত দায়িত্বে আন অফিসিয়াল কর্মরত আছি। 

আমরা এ পর্যন্ত এই পত্রটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সিন্ডিকেট দ্বারা অবহেলিত ও বৈষ্যম্যের স্বীকার" হয়ে আসছি যাহা খেসারত যোগ্য। তাই এই পত্রটি সঠিক, সুষ্ট ও অফিসিয়াল ভাবে বাস্তবায়ন হলে চিরদিনের মতো সার সিন্ডিকেট নির্মূল হবে তাছাড়া নীতিমালা থেকে বাদ দিলে আমরা প্রকৃত ব্যবসায়িরা-কর্মচারী ও নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে, পুজি হারিয়ে দৈউলিয়া হয়ে রাস্তায় নামা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না, সুতরাং সারাদেশে ৬৪ জেলার অরাজনৈতিক দেশপ্রেমি অধিকাংশ পৈত্রিকসূত্রে, দীর্ঘ ৩০ বছরের উর্ধে, স্থায়ী সুনাম অর্জনকারী প্রকৃত ব্যবসায়ী, ব্যাংক ঋণের কিস্তি প্রদানের মাধ্যমে ৩০-৪০ লক্ষ টাকা কৃষক পর্যায়ে বাকী দেয়া ও পুজি বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত, আমাদের খুচরা সার বিক্রেতা এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ" গত ২১/১২/২০১৩ তারিখে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ে TO লাইসেন্সের জন্য আবেদন করি। 

ইতোমধ্যে জয়েন্ট স্টক কোম্পানী ও ফার্ম সমূহের পরিদপ্তরঃ হতে বিগত ২৪ আগস্ট ২০১৫ তারিখে এনসিএল নম্বর ২০১৫১৬৫২৭২ প্রাপ্ত হয়ে এ পরিদপ্তরের সুপারিশ সহ বানিজ্য মন্ত্রণালয়ে টি ও লাইসেন্সের জন্য বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় বিগত ২৬/০৭/২০১৮ খ্রিঃ স্মারক নং ২৬.০০.০০০০. ১৫৭, ৩৩.০০১.১৫.১৫-১৯০ এর প্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশন" নামক বাণিজ্য সংগঠন আছে বলে, আমাদের খুচরা সার বিক্রেতা এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ" এর স্বপক্ষে মতামত দেননি অথচ বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশঃ ১৯৬১ এর ৩(২) ধারা মতে 'বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এ্যাসোসিয়েশন” ও 'খুচরা সার বিক্রেতা এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ অনুরূপ কোনো সমিতি নয়। দুটোরই নাম, গঠনতন্ত্র, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মকান্ড ভিন্ন বিধায় এর স্ব- পক্ষে মতামত পাওয়ার জন্য আমরা হকদার। তাই সার ব্যবস্থাপনা মনিটরিং অধিশাখার দেওয়া সূত্রস্থ স্মারক নং- ১২,০০,০০০০, ০৩৫, ৪০.০০৮-১৬-১৮২ তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রি. এর মতামত "রিভিউ" পূর্বক নতুন সূত্র স্মারকে আমাদের স্ব-পক্ষে ও অনুকূলে সম্পূরক মতামত সহ TO নিবন্ধন পেতে সানুগ্রহ আশা করছি। 

খুচরা সার বিক্রেতাও তাদের পরিবারসহ ৫ কোটি কৃষক সরাসরি সুবিধাভোগী ও সেবাগ্রহীতা আর্থিকভাবে, লাইসেন্স বাতিল প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্থ হবে। যার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেশের তৃণমূলে আঘাত হানবে।

 ১৩ নভেম্বর এর সার সংক্রান্ত নীতিমালায় খুচরা সার বিক্রেতাগণকে বা খুচরা সার বিক্রেতা আইডি কার্ডধারীদের বলবৎ ও চলমান রেখে খুচরা সার বিক্রেতা এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর টি.ও নিবন্ধন পেতে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেন।







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো. আশরাফ আলী
কর্তৃক এইচবি টাওয়ার (লেভেল ৫), রোড-২৩, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।
মোবাইল : ০১৮৪১০১১৯৪৭, ০১৪০৪-৪০৮০৫৫, ই-মেইল : thebdbulletin@gmail.com.
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত