
X
ছবি : প্রতিনিধি
সাবেক মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া ফাইনালিস্ট কিশোওয়ার চৌধুরীকে নিয়ে ‘ফ্লেভারস অব হোম’ আয়োজনের মাধ্যমে ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) শুধু বাঙালি ঐতিহ্যকেই উদযাপন করেনি, পাশাপাশি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিয়েছে।
প্রায় দুইশো মানুষ হাতে বই নিয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিলেন, কেউ একটি অটোগ্রাফের জন্য, কেউবা হয়ত একটি ছবির জন্য, আবার কেউ কিছু মুহূর্তের জন্য দেখতে চেয়েছিলেন সেই নারীকে, যিনি পান্তাভাত, আলুভর্তা আর খিচুড়ির মতো সাধারণ বাঙালি খাবারকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্ব দরবারের অন্যতম বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে।
অনেকের কাছেই এই আয়োজন ছিল প্রবাসে বসে নিজের শিকড় আর ঘরের স্মৃতিকে আবারও অনুভব করার এক উপলক্ষ্য। যুগের পর যুগ ধরে নারীদের কাছে খাবার কখনোই শুধু স্বাদ গ্রহনের বিষয় না । এর প্রতিটি পদে পদে লুকিয়ে থাকে নানা রকম স্মৃতি, প্রতিটি রন্ধনপ্রণালীতে থাকে একেকটি গল্প, আর প্রতিটি পরিবেশনে ফিরে আসে নিজের শিকড়ের টান।

বলছি যার গল্প, তিনি কিশোওয়ার চৌধুরী, মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া সিজন ১৩ এর দ্বিতীয় রানার-আপ, যার পথচলা আজ রান্নাঘরের গণ্ডি পেরিয়ে তরুন সমাজের অনুপ্রেরণা ও সামাজিক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণ। গত ২৬ জুলাই, রবিবার, ভিএঅস আয়োজিত ‘ফ্লেভারস অব হোম’ অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর জীবনের নানা আকা বাঁকা পথচলা তুলে ধরেন। শৈশবের স্মৃতি থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রন্ধনশিল্পের মঞ্চে পৌঁছানোর যাত্রা, আর সেখান থেকে করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট (কেসিসি) উইংস’- এর মাধ্যমে বৃত্তিমূলক রন্ধন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ সম্পর্কে তথ্য তিনি উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিনিময় করেন তিনি।
২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনিতে একটি পুনর্মিলনী আয়োজনের পরিকল্পনা থেকেই ভিকারুননিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস)-এর যাত্রা শুরু হয়। সে সময় ভিকারুননিসার কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়েছিলেন পুরোনো বন্ধনকে আবারও জাগিয়ে তুলতে এবং সেই বন্ধনকে কীভাবে সমাজের জন্য অর্থবহ কিছুতে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতে। এই অভিন্ন লক্ষ্য থেকেই ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ভিএঅস। এরপর থেকে সংস্থাটি অস্ট্রেলিয়ার ছয়টি রাজ্য ও অঞ্চলের প্রায় ১২টি সংস্থাকে সহায়তা করেছে।
এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল নারী, শিশু ও পরিবারের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা উন্নয়নে কাজ করা। অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হওয়া এই মানবিক উদ্যোগের প্রভাব বাংলাদেশেও পৌঁছে দিতে ভিএঅস এবার ‘কিশোওয়ার’স কালিনারি কোহর্ট - কেসিসি উইংস’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আয়োজন করেছে ‘ফ্লেভারস অব হোম: অ্যান আরভো উইথ কিশোওয়ার চৌধুরী’। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি, এই আয়োজন পরবর্তী প্রজন্মের শেফদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসাবে বিবেচিত হবে। নিজেদের ঐতিহ্য ও সমষ্টিগত শক্তিকে একত্র করে কীভাবে অন্যদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সেই অভিন্ন বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার মঞ্চে দর্শকদের কাছে পরিচিত হওয়ার বহু আগেই কিশোওয়ারের রান্নার হাতেখড়ি হয়েছিল এমন এক বাড়িতে, যেখানে সামনের দরজা খুব কমই বন্ধ থাকত। প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের আসতে আলাদা কোনো নিমন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না। বড় বড় হাঁড়িতে রান্নাকে ঘিরেই শুরু হতো উৎসবের প্রস্তুতি, আর রান্নাঘরের কাজে সবারই থাকত নিজস্ব ভূমিকা।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে, যখন ক্যাটারিং সেবা এতটা প্রচলিত ছিল না, তখন পারিবারিক আয়োজন মানেই ছিল সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ। কেউ তেহারি রান্না করতেন, কেউ সবজি কাটতেন, আবার কেউ নিজের বিশেষ পদটি তৈরি করতেন। রান্না তখন শুধু একজনের দায়িত্ব ছিল না, বরং ছিল একসঙ্গে কাজ করার এক সুন্দর উপলক্ষ, যা পুরো পরিবার ও সম্প্রদায়কে একই টেবিলে একত্র করত।
শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে কিশোওয়ার বলেন, “সবাইকে একসূত্রে বেঁধে রাখত একটাই জিনিস, আর তা হলো খাবার।” শৈশবের সেই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু তাকে ভবিষ্যতের শেফ হিসেবেই গড়ে তোলেনি, বরং এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে খাবার শুধু পুষ্টি জোগানোর চেয়েও অনেক বেশি কিছু। নৃবিজ্ঞান, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ, আর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রন্ধনশিল্প, কৌশল ও অনুপ্রেরণার সমন্বয় কিশোওয়ারকে একজন শেফ হিসেবে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে গড়ে তুলছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে ধীরে ধীরে তাঁর নিজস্ব স্বপ্ন ও পরিচয় গড়ে ওঠে। অথচ মজার ব্যাপার হল কিশোওয়ার নিজে কখনো কল্পনাও করেননি, একদিন তিনি বিশ্বের কাছে পরিচিত একজন শেফ হয়ে উঠবেন।
কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় জুনিয়র মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর ছেলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলেই তাঁকে বলেছিল।
" মা, তুমিও করো।" মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর যাত্রা শুধু বিশ্বজুড়ে বাঙালি ঘরোয়া রান্নার পরিচয়ই দেয়নি, বরং একটি সাধারণ স্বপ্নকে বৃহত্তর উদ্দেশ্যে রূপান্তরিত করার মঞ্চও জুগিয়েছিল এবং অন্যদেরও বিশ্বাস করতে শিখিয়েছিল যে রান্নাও একটি পেশা হতে পারে। ব্যাগ গোছানোর সময় তিনি তাঁর মেয়েকে বলেছিলেন, "মা, মঙ্গলবার ফিরে আসতো, কিন্তু আমি পরের সাত মাস বাড়ি আসিনি।"
সন্তানদের থেকে দূরে থেকে এবং হাজার হাজার প্রতিযোগী শেফদের সাথে প্রতিযোগিতা করে তিনি সবার মনে তাঁর একটা জায়গা করে নেন। কিশোওয়ার কখনোই বিচারকদের মুগ্ধ করার উদ্দেশ্যে রান্না শুরু করেননি। বরং, তিনি সেই খাবারগুলোই রান্না করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন যা তিনি সবচেয়ে ভালো জানতেন, যে পদগুলো তাঁকে বাড়ির কথা মনে করিয়ে দিত।
"আমি কখনো কাউকে মুগ্ধ করার জন্য রান্না করিনি। আমি মন থেকে রান্না করতাম। আমার রান্না করা প্রতিটি পদেই উঠে এসেছে আমাদের প্রতিদিনের খাবার আর যে সংস্কৃতির মধ্যে আমি বড় হয়ে উঠেছি। আমি জানতাম, আমি থালায় এমন কিছু পরিবেশন করব যা তারা কখনো ভুলবে না।"
মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া কিশোওয়ারকে শুধু স্বীকৃতিই দেয়নি, দিয়েছে এক গভীর উপলব্ধিও। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, রেসিপি, পারিবারিক স্মৃতি আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে আসা গল্পগুলো যদি লিপিবদ্ধ না করা হয়, তবে সেগুলো খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। আর সেই উপলব্ধিই জন্ম দেয় তাঁর বই ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’-কে। বইটি কেবল কিছু রান্নার রেসিপির সংকলন নয়, এটি যেন একটি দলিল।বইটি সম্পূর্ণ করতে তার প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। বইটি শুধু রেসিপির সংকলন নয়, এটি তাঁর আগের প্রজন্মের প্রতি একপ্রকার শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া এক মূল্যবান উত্তরাধিকার। কিশোওয়ারএর মতে, জীবন তাঁর পরিবারকে পৃথিবীর যেখানেই নিয়ে যাক না কেন, তাঁর মেয়ে যেন এই বইয়ের মাধ্যমে সবসময় ফিরে যেতে পারে সেই গল্প, সেই স্মৃতি আর আপন শিকড় , যার শুরু একসঙ্গে বসে খাবার ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই।
অনুষ্ঠানের দিন, ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’ -এর ১৬০টিরও বেশি কপি নতুন ঠিকানা খুঁজে পায়। এই উদ্যোগের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ভিএঅসের প্রাক্তন সভাপতি ও অ্যাডভাইসর ড. মাহবুবা খানম মুক্তা বলেছেন, "আজকের আয়োজন শুধু ‘স্মোক, রাইস, ওয়াটার’ বইকে ঘিরে একটি আলোচনা ছিল না। এটি ছিল আমাদের আপন পরিচয়, শিকড় ও ঐতিহ্যকে উদযাপনের পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার অঙ্গীকার। ফেলে আসা দেশকে নতুন করে স্মরণ করার একটি উপলক্ষ।"
কিশোওয়ার বলেন "এই বই আমার কাছে আমাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম। এটি শুধু কিছু রেসিপির সংকলন নয়, বরং আমাদের ঐতিহ্য, পরিচয় এবং যে খাদ্য সংস্কৃতি আমাদের বেড়ে ওঠাকে গড়ে তুলেছে, তারই এক মূল্যবান দলিল, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।"
কিন্তু ঐতিহ্য রক্ষা ছিল কিশোওয়ারএর লক্ষ্যের একটি অংশ মাত্র। তিনি আরও চেয়েছিলেন, খাদ্য যেন অন্যদের জন্য সুযোগ তৈরি করে। ওয়ার্ল্ড ভিশন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বস্তি করাইল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এমন শিশুদের সঙ্গে দেখা করেন, শিক্ষা যাদের মনে আশা জাগিয়েছিল ঠিক কিন্তু কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করে দেয়নি।
তখন তার মনে একটি প্রশ্ন জাগল, “আমি কি তাদের জন্য কিছু করতে পারি?” এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারলেন যে শুধু উৎসাহটাই যথেষ্ট নয়। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সুযোগ আর একজন পথপ্রদর্শক। এই ভাবনা থেকেই তিনি কেসিসি উইংস’ উদ্যোগের সূচনা করেন।
এই প্রোগ্রামটি করাইলের প্রতিভাবান তরুণদের রান্নার প্রতি ভালোবাসাকে পেশায় পরিণত করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কেসিসি উইংস শুধু রন্ধনশিল্প শেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, একটি শিশু কোথায় জন্মগ্রহণ করেছে, তা তার সাফল্যের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, পেশাদার রান্নাঘরে কাজের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ তৈরি করে এই কর্মসূচি একেকজন তরুণ শেফের জীবনে সীমাবদ্ধতার জায়গায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে চায়। ওয়ার্ল্ড ভিশন এবং শেফস ফেডারেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে রন্ধনশিল্পে পড়াশোনার বৃত্তি, ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ, পারিবারিক সহায়তা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হোটেল চেইনের সঙ্গে মেন্টরশিপের সুযোগ।
কিশোওয়ারের এই স্বপ্নের সঙ্গেই একাত্মতা খুঁজে পেয়েছে ভিএঅস। সুবিধাবঞ্চিত তরুণ শেফদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাতে সংগঠনটি কেসিসি উইংসের জন্য ৫,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের একটি অনুদান চেক প্রদান করে। এই অনুদানটি ভিএঅসের "কানেক্ট টু কেয়ার" দর্শনের প্রতি বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে, যা সংস্থাটিকে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক থেকে অর্থবহ সামাজিক প্রভাব তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি সংগঠনে রূপান্তরিত করেছে। ২০২২ সালের ১৮ই মার্চ এসিএনসি(অস্ট্রেলিয়ান চ্যারিটি ও নন প্রফিট কমিশন)তে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা হওয়ার পর থেকে, ভিএঅস অস্ট্রেলিয়া জুড়ে দাতব্য কাজকে সমর্থন করার জন্য ৯২,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছে। এর "আভা" ( অস ভিকি এইড) প্রোগ্রামের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় আর্থিক সংকটে থাকা ভিকারুননিসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে। একই সঙ্গে কেসিসি উইংসে তাদের এই সহায়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রন্ধনশিল্পীদের গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশেও সেই একই সেবার মনোভাবকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক পরিবর্তনে ভিএঅসের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা তুলে ধরে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মিসেস মারিয়াম শামস বলেন, "বছরের পর বছর ধরে ভিএঅস অস্ট্রেলিয়া জুড়ে বিভিন্ন দাতব্য উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে। কেসিসি উইংসকে সমর্থনের মধ্য দিয়ে সেই সেবার পরিধি এবার বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ল।এটি শুধু একটি অনুদান নয়, বরং অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে আশার এক সেতুবন্ধন। যখন ভিকিরা একত্রিত হয়, আমরা এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করি।"
কিশোওয়ারের কাছে এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এর তাৎপর্য ছিল আরও অনেক গভীর। তিনি বলেন, “কেসিসি উইংস-এর মাধ্যমে আমি করাইলের সুবিধাবঞ্চিত তরুণ-তরুণীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে চাই, যাদের শুধু এমন একজনকে প্রয়োজন যে তাদের ওপর বিশ্বাস রাখবে। এজন্য ভিএঅসকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ কারণ তারা শুধু আমার যাত্রাকেই উদযাপন করেনি, বরং অন্য কারও ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ”
কিশোওয়ারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ভিএঅসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইসর ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান বলেন, এই পার্টনারশিপ সংস্থাটির এই বিশ্বাসকেই প্রতিফলিত করে যে, দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টির সূচনা হয় মানুষের ওপর বিনিয়োগের মাধ্যমে। " ভিএঅস বিশ্বাস করে যে প্রকৃত শিক্ষা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত। সামাজিক সংযোগ, সহানুভূতি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আমাদের সমাজে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারি।"
ভিএঅসের জন্য ‘ফ্লেভারস অফ হোম’ কেবল একজন প্রখ্যাত শেফকে আমন্ত্রণ জানানো বা প্রবাসীদের একত্রিত করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না বরং ঐতিহ্যকে অর্থবহ কর্মকাণ্ডে রূপান্তরিত করাই ছিলো এর সাফল্য। কিশোওয়ার চৌধুরীর সঙ্গে এই পার্টনারশিপ এবং কেসিসি উইংসের পাশে দাঁড়িয়ে ভিএঅস আড্ডা - গল্প, চা নাশতা আর পুরোনো স্মৃতিতে ভরা একটি বিকেলকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরির এক উদ্যোগে রূপ দিয়ে দিয়েছে। আর এভাবেই তারা দেখিয়েছে, একটি প্রাক্তন ছাত্রীদের নেটওয়ার্কিং শুধু একত্রিত হওয়ায় নয়, বরং অন্যের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার মধ্যেই নিহিত।
লেখক: রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস প্রফেশনাল