প্লাস্টিকের দাপটে বিপন্ন সোনালি আঁশ, রাজারহাটে তিন বছরে পাটের আবাদ কমেছে ৩৪২ হেক্টর

রাজারহাট কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাবাংলা

রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান, ভুট্টা কিংবা অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট উৎপাদনে

2026-08-16T15:19:41+00:00
2026-08-16T15:19:41+00:00
রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২৬
   
প্লাস্টিকের দাপটে বিপন্ন সোনালি আঁশ, রাজারহাটে তিন বছরে পাটের আবাদ কমেছে ৩৪২ হেক্টর
রাজারহাট কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম   (ভিজিট : ০)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান, ভুট্টা কিংবা অন্যান্য ফসলের তুলনায় পাট উৎপাদনে পরিশ্রম ও ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকলে কৃষকের ভোগান্তি বেড়ে যায়। এতে পাটের মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ে উৎপাদন ব্যয়।

একসময় গ্রাম অঞ্চলে দেখা যেতো পাটের তৈরি দরি,বস্তা,টোপা,বাজারের ব্যাগসহ গ্রামীণ বাড়িঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র । কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। শহর-গ্রাম সব জায়গায় এখন প্লাস্টিকের দাপটে দিনে দিনে কমছে পাটের উৎপাদন। পাটপণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়া সত্বেও এতে মানুষের আগ্রহ কমছে! বাড়ছে পরিবেশের ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার। 

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৩,৬৫৩ হেক্টর, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে উৎপাদিত জমির পরিমাণ ৫৬৫ হেক্টর, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৯৩হেক্টর, এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসে দারিয়েছে ২২৩ হেক্টর।গত তিন বছরে উৎপাদিত জমির পরিমাণ কমেছে ৩৪২ হেক্টর।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যত্রতত্র প্লাস্টিকের ব্যবহার শুধু পরিবেশের ক্ষতি নয় এটি মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। বিভিন্ন পরিক্ষায়, মানুষের রক্তে এখন মাইক্রোপ্লাসটিক ধরা পড়ছে।যা ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

পরিবেশবীদ ড.তুহিন ওয়াদুদ বলেন,কৃষকরা দিন দিন পাট উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে এর অন্যতম কারণ, উৎপাদনের তুলনায় লাভ কম হওয়া সেই সাথে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার যা কিনা পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি করছে।

পাট চাষী নিমাই রায় বলেন , পাট চাষের শুরুতেই জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, আগাছা দমন ও পরিচর্যায় খরচ হয়। এরপর পাট কাটতে শ্রমিক, আঁটি বাঁধা, বহন এবং জাগ দেওয়ার জন্য আবার বাড়তি খরচ করতে হয়। অথচ বাজারে পাটের দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী না থাকলে পুরো হিসাবই এলোমেলো হয়ে যায়।

কৃষক নির্মলেন্দু বাবু বলেন, পাট বিক্রি করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়।সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করা যায়না।  মধ্যস্বত্বকারীরা মাঠে এসে কম দামে পাট কিনে নিয়ে যায়। পরবর্তী ধাপে একই পাটের দাম বাড়তে থাকে।

পাটপণ্য বিক্রেতা ছবর উদ্দিন বলেন,বাবা আগত মুই পাট দিয়া  দরি,গরুর টোপা,বস্তা,বাজারের ব্যাগ তৈরি করি বাজারত বিক্রি করছোং, কিন্তুু এলা মানুষ এগলা না কিনিয়া প্লাস্টিকের জিনিস কিনে।

কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক বিঘা  পাট চাষে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা।খরচের তুলনায় বাজার না থাকায় কিছুটা আগ্রহ কমছে তাদের। 

এ বিষয়ে, রাজারহাট উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন,এ-বছরে পাঠ উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ঘনঘন বৃষ্টি। বৃষ্টি আগাম হওয়ায়, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে হওয়ায় পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায়  উৎপাদন কম হওয়ার অন্যতম কারণও হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy