বিপিএলের দ্বাদশ আসরের শুরুর ঠিক আগেরদিন চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে ঘটে গেল বিরল ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে বিসিবিকে পাঠানো এক চিঠিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিক কাইয়ুম রশিদ জানিয়েছেন, আর তারা দলটির মালিকানা রাখতে চান না। চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আর্থিক সংকট।
এরপর বিসিবি চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে বিসিবিকে দলটির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরে বিপিএলের কর্মকর্তারা দলের সিনিয়র খেলোয়ার এবং কোচিং স্টাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
ফলে এখন থেকে চট্টগ্রাম দলের সবকিছু দেখভাল করবে বিসিবি। ইতোমধ্যেই রয়্যালসের স্কোয়াডে বিদেশি ক্রিকেটার নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বিসিবির কাছে দলটির দায়িত্ব হস্তান্তর হওয়ার খবরটি খেলোয়াড়দের জন্য স্বস্তির বিষয়। কারণ এর আগ পর্যন্ত নানা কর্মকাণ্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষ সমালোচিত ছিলেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের পর্দা উঠবে। তবে আসরের শুরুতেই বিসিবি এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এর আগে নিলামে চমক দেখিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস সর্বোচ্চ ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় নাঈম শেখকে দলে ভিড়িয়েছিল।
বিপিএলের উদ্বোধনী দিনে রয়েছে দুটি ম্যাচ। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালস মুখোমুখি হবে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টায়। তবে প্রথম ম্যাচে নামার আগে এখনও সব সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি দলের হাতে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ জাস্টিন মাইলস কখন ক্যাম্পে যোগ দেবেন, সেটিও অনিশ্চিত।
এছাড়া দুই দিন আগে হঠাৎ চট্টগ্রাম রয়্যালসের তিন বিদেশি ক্রিকেটার টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করেন। তারা হলেন পাকিস্তানের লেগস্পিনার আবরার আহমেদ, আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও শ্রীলঙ্কার নিরোশান ডিকভেলা। জানা গেছে, পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তারা খেলতে আসতে চাচ্ছিলেন না। কারণ চট্টগ্রাম রয়্যালস পুরো ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করেনি। নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ক্রিকেটারদের ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক দেওয়া আবশ্যক। এর আগে যখন চট্টগ্রাম রয়্যালসের ফি ও ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, বিসিবি জানায় যে শর্ত পূরণ করা হয়েছে।