
X
সংগৃহীত ছবি
বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে অন্যতম উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে 'হরমুজ প্রণালী'। বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই ধমনীটি যখন উত্তেজনার পারদে ফুটছে, তখন বাংলাদেশের জন্য এক অভাবনীয় সুসংবাদ হয়ে এসেছে তেহরানের একটি সিদ্ধান্ত।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝে ইরান মাত্র পাঁচটি দেশকে তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যাদের জাহাজ চলাচলে কোনো প্রকার বাধা বা নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হলো, এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও বৈশ্বিক অস্থিরতা
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। কোনো কারণে এই পথটি রুদ্ধ হলে বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতি থমকে যেতে বাধ্য। বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ইরানের টানাপোড়েনের জেরে যখন অধিকাংশ দেশ জাহাজ চলাচল নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে, তখন বাংলাদেশের জন্য এই বিশেষ সুবিধা এক বিশাল কূটনৈতিক ও কৌশলগত প্রাপ্তি।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওপর অনেকাংশেই নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য বাড়লেই আমাদের দেশে পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ইরান থেকে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহের এই নিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি 'রক্ষাকবচ' হিসেবে কাজ করবে।
যদি হরমুজ প্রণালীর সংকটে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো তেলের অভাবে বা উচ্চমূল্যের কারণে সংকটে পড়ে, বাংলাদেশ তখন স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে পারবে। এর ফলে:
দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা: পরিবহন খরচ না বাড়লে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানা সচল রাখতে জ্বালানি সংকট দেখা দেবে না।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশ এই বিশেষ সম্পর্কের সুবাদে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে থাকতে পারবে।
বন্ধুত্বের এক নতুন মাত্রা
ইরান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ। তবে বর্তমান সময়ের এই সংকটকালে ইরানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে 'বন্ধু' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা কেবল বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি গভীর ভ্রাতৃত্বমূলক নিদর্শন। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ ইরানের এই বিশেষ সহযোগিতাকে দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে।
বিশ্ব যখন জ্বালানি সংকটে নাকাল হওয়ার উপক্রম, তখন ইরান থেকে পাওয়া এই ‘উপহার’ আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। সঠিক সময়ে সঠিক বন্ধুকে চিনতে পারা এবং সেই সম্পর্ককে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানোই হবে আমাদের আগামীর সার্থকতা।
লেখক:
ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম
কলামিষ্ট, সমাজ সেবক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনীতিবিদ।
চেয়ারম্যান - বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র
চেয়ারম্যান - সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট
চেয়ারম্যান - ডেমোক্রেসি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি)
চেয়ারম্যান - আলহাজ্ব কে,এম,আব্দুল কারীম রাহিমাহুল্লাহ ট্রাস্ট