শেরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

শেরপুর সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকা ও বিভিন্ন এলাকায় ফসলি

2026-05-25T12:40:43+00:00
2026-05-25T12:40:43+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
শেরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম   (ভিজিট : ৪৬)
শেরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা
X

শেরপুর সীমান্তে পাহাড়ি ঢলে ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা

শেরপুর সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে নিচু এলাকা ও বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে পাকা বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকার ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম উদ্বিগ্ন ও হতাশ। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় সার্বিক বোরো ধানের ফলন ৭৫ শতাংশ কমেছে।

জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার আয়নাপুর, কাড়াগাঁও, দুপ্রিয়া, কংশা, নলকুড়া, হাতীবান্ধাসহ একাধিক সীমান্ত এলাকায় মাঠ মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কৃষকরা কোমর-গভীর পানিতে পাকা ধান কাটছেন। আবার অনেকে পানির কারণে ক্ষেতে ঢুকতে পারছেন না এবং ধান কাটাতে পারছেন না। যারা গেছেন তারাও ধান কাটতে এক হাজার থেকে ১২০০ টাকায় শ্রমিক পাচ্ছেন না।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন খাল, খাল ও নিচু এলাকায় পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী ও শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় পানি প্রবেশ করে আশপাশের নিচু এলাকা ও ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করছে। এতে হঠাৎ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং অনেক জমিতে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে জলাবদ্ধতার কারণে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার কাড়াগাঁও গ্রামের কৃষক বদি মিয়া বলেন, কয়েক মাস ধরে অনেক কষ্টে ধান চাষ করছিকিন্তু হঠাৎ করে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে মাঠের ধান তলিয়ে গেছে। এখন ধান কাটতে পানির নিচে যেতে হচ্ছে। কিছু ধান নষ্ট হয়ে গেছে, তবে আশা করি পানি কমলে আমি অন্তত বাকী ধান ঘরে তুলতে পারব।"

ক্ষতিগ্রস্ত অন্য স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে হঠাৎ জলাবদ্ধতার কারণে পাকা ধান নষ্ট হয়ে গেলে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। তারা আরও জানান, চাষের জন্য অনেক কৃষক ঋণ নিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন উপনদীর অনেক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়, ফলে আমাদের ফসলি জমি ও ঘরবাড়িতে পানি উঠে যায়। কিছু কিছু এলাকায় স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যায়। অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতি কয়েকগুণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নদী-খাল পাড়ের মানুষও আতঙ্কে রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, মহরশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়ার উন্নতি না হলে এবং পানি দ্রুত না নামলে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে স্থানীয়দের আশা আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং টানা বৃষ্টি কমলে উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ ধীরে ধীরে কমবে। এতে প্রাকৃতিকভাবে ফসলি জমিতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, ইতিমধ্যে যে পরিমাণ ধান নষ্ট হয়ে গেছে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়, তবে পানি দ্রুত কমে গেলে বাকি ধান কেটে ঘরে আনা সম্ভব হবে। তাই বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক এখন অনুকূল আবহাওয়া ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, আমাদের উপজেলায় প্রায় ৯০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। কাংশা, নলকুড়া ও গৌরীপুর ইউনিয়নে সামান্য ধান কাটা বাকি। এছাড়া বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফসলি জমির পরিমাণ ৬ থেকে ৭ একর হতে পারে,” তিনি বলেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy