
X
জিংকসমৃদ্ধ ধানের মাঠ
ধান আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য। এদেশের মানুষের জীবনাচরণ, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্য পুষ্টিকর খাবার যোগাড় করতে না পারলেও এদেশের প্রায় সবাই প্রতিদিন কম-বেশি ভাত খেয়ে থাকে।
দু বা তিন বেলা ভাতের সংস্থান প্রায় সকলেরই ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। এজন্য খাদ্য নিরাপত্তা বলতে বাংলাদেশে প্রধানত চাল বা ভাতের নিরাপত্তাকে বুঝায়। কেননা, আমাদের প্রাত্যহিক চাহিদার শতকার ৭০-৭৫ ভাগ শর্করা, ৬০-৬৫ ভাগ প্রোটিন, ৮ ভাগ ফ্যাট, ৫.৮ ভাগ ক্যালসিয়াম এবং ৯১.৬ ভাগ ফসফরাস চাল থেকে পাওয়া যায়। দেশে মাথাপিছু চালের গ্রহণ হার হিসেবে দৈনিক যে পরিমাণে পুষ্টি আমরা চাল বা ভাত থেকে পাই তা কোনভাবেই আমাদের চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। সুনিদিষ্ট করে বলতে গেলে, প্রতি ১০০ গ্রাম চাল থেকে আমরা মোটামুটি ১২৯ কিলোক্যালরি শক্তি, ৭৮.০৯ গ্রাম শর্করা, ৭.১২ গ্রাম প্রোটিন, ০.২৮ গ্রাম চর্বি, ১.৩০ গ্রাম আঁশ ০.০৭ মি. গ্রাম থায়ামিন, ০.০১৫ মি. গ্রাম রিভোফ্লাভিন, ১.০৯মি. গ্রাম জিংক, ২৮ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৮০ মি. গ্রাম আয়রন, ২৫ মি. গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান পেয়ে থাকি (ইউএসএইড পুষ্টি ডেটাবেজ)। যদিও জাতভেদে এই পরিসংখ্যানের তারতম্য হতে পারে।
বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও পুষ্টি নিরাপত্তায় এখনও পিছিয়ে আছে। পুষ্টিহীনতা এদেশের অনেক মানুষের জন্য একটি অভিশাপ। তার মধ্যে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-এর অভাব অন্যতম। বাংলাদেশে ৫ বছরের কমবয়সী শিশুর প্রায় দু-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনো মাত্রার অপুষ্টিতে ভুগছে, এর মধ্যে শতকরা ১৪ ভাগ শিশু ভুগছে মারাত্মক অপুষ্টিতে। এর কারণ পুষ্টি সচেতনতার অভাব অথবা পুষ্টিকর খাবার ক্রয় করার অসামর্থতা। অথচ ১৯৭২ এর সংবিধানে উল্লেখ করা হয় “জনগনের পুষ্টিস্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্রের প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবে”।
এসডিজির ২নং অভীষ্ট অর্জন কে সামনে রেখে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- জিংক, আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলসসহ শরীরের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যোপাদানগুলো দেহের প্রয়োজন অনুসারে চালে সংযোজন, সরবরাহ বা পরিমাণে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। পুষ্টিসমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবনে বিশ্বের সর্বাধুনিক বায়োফর্টিফিকেশন ও জিএম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। কেননা দেশের সাধারণ মানুষ দুধ-ডিম, মাছ ও মাংসসহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার কিনতে না পারলেও তারা ভাত নিয়মিত খেতে পারছে। এজন্য জিংক, আয়রন, প্রোটিন, এন্টি-অক্সিডেন্ট, গামা এমাইনো বিউটারিক এসিড (এআইএ) ও প্রো-ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ গোল্ডেন রাইস এবং স্বল্প জিআই সম্পন্ন ডায়াবেটিক ধানসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর ধান উদ্ভাবন করেছে ব্রি। এর মধ্যে জিংকসমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবনে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশ্বের প্রথম জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাতসহ ব্রি এখন পর্যন্ত জিঙ্ক ধানের ৭টি জাত উদ্ভাবন করেছে। ২০১৩ সালে ব্রির বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সর্বপ্রথম জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত ব্রি ধান৬২ উদ্ভাবন করেন। পরবর্তীতে ব্রি আরো ছয়টি জিংক সমৃদ্ধ জাত যেমন- ব্রি ধান৬৪, ব্রি ধান৭২, ব্রি ধান৭৪, ব্রি ধান৮৪, ব্রি ধান১০০ এবং ব্রি ধান১০২ অবমুক্ত করে।
ভাত মানুষের প্রধান খাদ্য হওয়ায় জিংকসমৃদ্ধ ধানের মাধ্যমে জিংকের অভাব পূরণ একটি টেকসই সমাধান। জিংকসমৃদ্ধ ধানের ভাত খেয়ে জিংকের দৈনিক চাহিদার ৫০-৭০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। কৃষকের মাঝে এ জাতগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণ করা হলে এদেশের পুষ্টিহীনতা তথা জিংকের অভাব পূরণ সহজ ও টেকসই হবে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বাংলাদেশের উচ্চ ফলনশীল ধানের সঙ্গে পরাগায়ন ঘটিয়ে জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাতগুলো উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ধান থেকে কৃষকরা নিজেরাই বীজ তৈরি করে রোপণ করতে পারবেন। অধিক পরিমাণে জিংক থাকা সত্ত্বেও এই ভাতের স্বাদ ও রঙয়ের কোনো তারতম্য হয় না।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচে এমন বয়সী ৪৬ শতাংশ শিশু জিংক স্বল্পতায় ভুগছে। আবার বিভিন্ন বয়সী ৫৭ শতাংশ নারীর রয়েছে জিংক স্বল্পতা। নারী-পুরুষ ও শিশু মিলে গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ জিংকের অভাবে ভুগছে। এর সমাধান খুঁজতেই ভাতের মাধ্যমে জিংকের অভাব দূর করতে ৭টি জিংকসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত আরো ১৬টি বায়োফরটিফাইড জিংকসমৃদ্ধ ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছেন।
এখন আসি মানব শরীরে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা কী? জিংক একটি খনিজ উপাদান। জিংক মানুষের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান যা দেহে এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, শর্করার ভাঙন, দেহ কোষের বৃদ্ধিতে এবং পলিপেটাইড গঠনে, গ্যাসটিন নিঃসরণের মাধ্যমেই স্বাদের অনুভূতি তৈরি বা রুচি বাড়াতে ভূমিকা রাখে। হাড়ের বৃদ্ধির জন্য কেরোটিনয়েড তৈরি ও তার পরিপক্কতা, ইনসুলিন তৈরি, ত্বকের ক্ষত সারানো ও রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি কাজে জিংকের অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মানবদেহে ২০০ এরও বেশি এনজাইমের নিঃসরণে সহযোগিতা করে জিংক। যা দেহের অনেক বিপাকীয় কাজে এটি অংশ নেয়। জিংকের অভাবে মানুষের শরীরে নানাবিধ অভাবজনিত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে খাটো বা বামন হওয়ার প্রবণতা, শারীরিক বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা সৃষ্টি, ডায়রিয়া, এলার্জি, চুলপরা, ক্লান্তি অনুভব হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীদের বেড়ে উঠার সময়ে জিংকের অভাব হলে শিশু-কিশোররা বেটে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু জিংক সমৃদ্ধ জাতের ভাত খেলে শরীরে জিংকের প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটে যাবে এবং বেটে হবার সম্ভাবনা থাকবে না।
ব্রি উদ্ভাবিত দুটি জিংকসমৃদ্ধ (স্বল্প জীবনকাল) জাত ব্রি ধান৬২ এবং ব্রি ধান৭২। এ দুটি জাত রোপা আমন মৌসুমের জন্য ছাড়করণ করা হয়েছে। ব্রি ধান৬২ এর প্রতি কেজিতে চালে প্রায় ২০ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে। হেক্টরপ্রতি এর ফলন ৪.৫টন। ব্রি ধান৭২ এর প্রতি কেজি চালে জিংক রয়েছে ২২.৮ মিলিগ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন ৬টন। অন্যদিকে বোরো মৌসুমের জন্য উদ্ভাবন করা ব্রি ধান৬৪ এ কেজিতে ২৪.৫ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে এবং এ জাতের হেক্টরপ্রতি এর ফলন ৬.৫টন। ব্রি ধান৭৪ এর প্রতি কেজি চালে জিংক রয়েছে ২৪.২ মিলিগ্রাম। হেক্টরপ্রতি ফলন ৭ টনেরও বেশি। উপরন্তু এ জাতটি মধ্যম মানের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী।
ব্রি ধান২৮ এর বিকল্প হিসেবে সম্প্রতি উদ্ভাবন করা হয়েছে ব্রি ধান৮৪, এটিতে জিংকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যা প্রায় ২৭.৬ মিলিগ্রাম/কেজি। এর গড় জীবনকাল ১৪২ দিন, ফলন ৬.৫ টন/হেক্টর, চালে অ্যামাইলোজ এর পরিমাণ ২৫.৯%। চাল মাঝারি চিকন এবং পেরিকার্পের রং লালচে ও আকর্ষনীয়। ব্রি ধান৮৪ তে আয়রনের পরিমাণ ১০ পিপিএম; আগে ব্রি উদ্ভাবিত জাতগুলোতে আয়রনের পরিমাণ ছিল ৩ থেকে ৫ পিপিএম। ব্রির “হেলদিয়ার রাইস” গবেষণা কর্মসূচির অধীনে বায়োফর্টিফাইড জিএমও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন ৪৫ পিপিএম জিংক এবং ১৫ পিপিএম আয়রন সমৃদ্ধ দ্বৈত সুবিধার নতুন জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা যা দ্বারা মানব শরীরের মোট চাহিদার কমপক্ষে ৮০% জিংক এবং ৫০% আয়রনের চাহিদা চালের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হবে।
অতি সম্প্রতি নতুন উদ্ভাবিত জাত ব্রি ধান১০০ এ জিংকের পরিমান ২৫.৭ মি.গ্রাম/কেজি এবং দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৬.৮ ভাগ। চাল মাঝারি চিকন এবং নাইজারশাইল টাইপ। এছাড়া বাড়তি পাওনা হিসেবে এতে প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৭.৭ ভাগ এবং ভাত চিকন ও ঝরঝরে। সর্বশেষ উদ্ভাবিত ব্রি ধান১০২ জাতটিও জিংকসমৃদ্ধ। ফলন ৮ টনেরও বেশি। এই ধানে জিংকের পরিমাণ ২৫.৫ মিলিগ্রাম/কেজি।
বেসরকারী সংস্থা হারভেস্টপ্লাস (ঐধৎাবংঃ চষঁং) এর তথ্যানুযায়ী জিংকসমৃদ্ধ এসব ধানের আবাদ এলাকা ও উৎপাদন দুটোই ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে দেশের ৩লক্ষ ৬০হাজার হেক্টর জমিতে এই ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে যেখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে বছরে প্রায় ১৭ লক্ষ ৯৩ হাজার মেট্র্কি টন। হারভেস্টপ্লাস ও গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন (এঅওঘ) বাংলাদেশ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে উদ্ভাবিত জিংকসমৃদ্ধ ফসলের জাত সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
জিংকসমৃদ্ধ চাল নিয়মিত গ্রহনের মাধ্যমে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের জিংক এর চাহিদা কিভাবে পূরণ করা সম্ভব তার একটি হিসাব (দৈনিক গড়ে চাল গ্রহনের পরিমান ৩৬৭ গ্রাম হিসাবে) বিজ্ঞানীরা উপস্থাপন করেছেন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের শরীরে জিংকের দৈনিক চাহিদা ১১ মিলিগ্রাম এবং প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর দৈনিক চাহিদা ৮ মিলিগ্রাম। ব্রি উদ্ভাবিত জিংক চালে জিংকের পরিমান ২৪ মি: গ্রা:/কেজি বা তার অধিক। সুতরাং ৩৬৭ গ্রাম চালে জিংকের পরিমান হবে ৮.৮১ মি:গ্রা। যার মধ্যে রান্নার সময় নষ্ট হয় ১১% এবং জিংকের ইরড়ধাধরষধনরষরঃু ৯১%। রান্না ও হজমের পর ৩৬৭ গ্রাম চাল হতে শরীর জিংক পায় ৭.১৪ মি:গ্রাম। অর্থাৎ মানুষের শরীরে জিংকের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে জিংক চাল গ্রহনের পরিমানের তারতম্যের কথা বিবেচনা করে আমরা বলতে পারি জিংকসমৃদ্ধ চাল নিয়মিত গ্রহনের মাধ্যমে দৈনিক জিংকের চাহিদার প্রায় ৫০-৭০% পূরণ করা সম্ভব।
বাজারে জিংকসমৃদ্ধ চালের সরবরাহ বাড়াতে জিংকসমৃদ্ধ জাতসমূহ মাঠ পর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণ ও সরকারিভাবে উৎপাদিত জাতগুলোর ধান ক্রয় ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এজন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ব্রি সদর দপ্তর ও ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে কৃষকের মাঠে প্রদর্শনী স্থাপন করে বীজের প্রাপ্যতা সহজলভ্য করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ টিএলএস উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে সরাসরি বিতরণ করতে হবে। ব্রিডার বীজ উৎপাদন করে বিএডিসি ও বিভিন্ন বীজ কোম্পানিকে বিতরণ এবং তাদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রত্যায়িত বীজ উৎপাদন করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। ইফরি-র অর্থায়নে পরিচালিত হারভেস্ট প্লাস প্রকল্পের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন করে বিনামূল্যে কৃষকের মাঝে সরাসরি বিতরণ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষকের মাঠে বীজ উৎপাদন করে প্রতিবেশী কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা যেতে পারে।
পরিশেষে বলতে চাই, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য গ্রহণে আমাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। এ জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে। জিংকসহ অন্যান্য পুষ্টিকর চালের ভাত গ্রহণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ কাজে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষিত ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোকে এ বিষয়ে জনমত তৈরিতে সচেষ্ট থাকতে হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রোগ্রাম যেমন- ঙগঝ, ইএঋ, ইএউ, ঝড়পরধষ ঘবঃড়িৎশ ইত্যাদি এর মাধ্যমে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে জিংকসমৃদ্ধ ধানের চাল বিতরণ করা হলে একদিকে যেমন খাদ্য চাহিদা ও জিংকের ঘাটতিজনিত পুষ্টির অভাব পূরণ হবে অপরদিকে জিংকসমৃদ্ধ চালের চাহিদা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। তাহলেই কেবল বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত জনগণের পুষ্টিস্তর উন্নয়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
লেখক: উর্ধ্বতন যোগাযোগ কর্মকর্তা
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট