কিশোরীদের প্রতি বয়স্কদের আকর্ষণ, অসম সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ!

চৌধুরী তানভীর আহমেদ

মতামত

সমাজে বয়সের বড় পার্থক্য থাকা সম্পর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে যখন কোনো বয়স্ক ব্যক্তি কিশোরী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক

2026-07-21T16:21:31+00:00
2026-07-21T16:21:31+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
কিশোরীদের প্রতি বয়স্কদের আকর্ষণ, অসম সম্পর্কে বাড়ছে উদ্বেগ!
চৌধুরী তানভীর আহমেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২১ পিএম   (ভিজিট : ৯১)
প্রতীকী ছবি
X

প্রতীকী ছবি

সমাজে বয়সের বড় পার্থক্য থাকা সম্পর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে যখন কোনো বয়স্ক ব্যক্তি কিশোরী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করেন, তখন বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি সামাজিক, মানসিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর বয়সে একজন ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকেন। এ সময়ে বয়স্ক কারও প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ তার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পেছনে সব বয়স্ক মানুষের উদ্দেশ্য এক নয়। তবে যখন বয়স, অভিজ্ঞতা ও ক্ষমতার বড় ব্যবধান থাকে, তখন সম্পর্কের মধ্যে অসমতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৈশোর এমন একটি সময়, যখন একজন মানুষ নিজের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস ও আবেগের জগৎ তৈরি করতে থাকেন। এ সময়ে কেউ যদি অতিরিক্ত মনোযোগ, প্রশংসা বা আবেগীয় সমর্থনের মাধ্যমে কিশোরীর কাছাকাছি আসার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক ব্যক্তি নিজের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক অবস্থান ব্যবহার করে কিশোরীর বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন। মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এ ধরনের আচরণ কখনো কখনো ‘গ্রুমিং’ বা ধীরে ধীরে মানসিক প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে এটি বন্ধুত্ব, পরামর্শ বা যত্নের মতো মনে হলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কেন কিছু বয়স্ক ব্যক্তি কিশোরীদের প্রতি আকৃষ্ট হন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ থাকতে পারে। তবে কোনো কারণই এমন আচরণকে গ্রহণযোগ্য করে না।

কিছু ক্ষেত্রে বয়স্ক ব্যক্তি নিজের বয়স, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা সম্পর্কের সমস্যার কারণে কম বয়সী কারও কাছ থেকে স্বীকৃতি বা প্রশংসা খুঁজতে পারেন। আবার কেউ কেউ বয়সের পার্থক্যকে ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করতে পারেন।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সমতা, সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। কিন্তু কিশোরী ও বয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে বয়স ও অভিজ্ঞতার বড় ব্যবধান থাকায় সেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কিশোরীদের ওপর মানসিক প্রভাব
কিশোর বয়সে ঘটে যাওয়া নেতিবাচক অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে পড়া কিশোরীরা অনেক সময় বিভ্রান্তি, ভয়, অপরাধবোধ, উদ্বেগ বা আত্মবিশ্বাসের সংকটে ভুগতে পারে।

কেউ কেউ পরিবার বা সমাজের ভয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করতে পারেন না। এর ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিশোরীদের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবার ও সমাজের ভূমিকা
কিশোরীদের সুরক্ষায় পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং খোলামেলা যোগাযোগ, আস্থা ও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সন্তানদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করতে হবে, যাতে তারা কোনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে সহজে পরিবারের কাছে সাহায্য চাইতে পারে।

একই সঙ্গে সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে কিশোরীদের নিরাপত্তা ও অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে অপরিচিত বা বয়সে বড় ব্যক্তিদের যোগাযোগের সুযোগ বেড়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিচয়, বন্ধুত্ব বা কথোপকথনের মাধ্যমে অনেক সময় ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অনলাইনে কারও পরিচয় বা উদ্দেশ্য সবসময় বোঝা সহজ নয়। তাই কিশোরীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।

অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের অনলাইন ব্যবহার সম্পর্কে খোঁজ রাখা, তবে তা যেন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণে পরিণত না হয়। আস্থা ও সচেতনতার ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

সামাজিক মূল্যবোধে প্রভাব
বয়স্ক ও কিশোরীর অসম সম্পর্ক সমাজে নানা ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এটি পারিবারিক আস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি সমাজের মৌলিক দায়িত্ব। তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও মানসিক সহায়তা।

যখন কোনো সমাজে কিশোরীদের প্রতি অনুপযুক্ত আচরণ বা শোষণের ঘটনা ঘটে, তখন তা শুধু একজন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না; বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তাবোধকে প্রভাবিত করে।

আইন ও সুরক্ষার বিষয়
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় বিশেষ আইন রয়েছে। এসব আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশু ও কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরীদের সঙ্গে কোনো ধরনের অনৈতিক বা শোষণমূলক আচরণ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বরং আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সচেতনতা বাড়ানোই সমাধানের পথ
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কিশোরীদের শেখাতে হবে—কোন আচরণ স্বাভাবিক, কোনটি অস্বস্তিকর এবং কখন সাহায্য চাইতে হবে। একই সঙ্গে বয়স্কদের মধ্যেও দায়িত্বশীল আচরণ ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা প্রয়োজন।





Loading...
Loading...


মতামত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy