ঘাসেই ওদের জীবন

কোরবান আলী তালুকদার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)

সারাবাংলা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। তাই এটি নদীবিধৌত অঞ্চল

2022-09-19T16:32:51+00:00
2022-09-19T16:32:51+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঘাসেই ওদের জীবন
কোরবান আলী তালুকদার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৪:৩২ পিএম   (ভিজিট : ৪৫১)
X

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা নদী। তাই এটি নদীবিধৌত অঞ্চল হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। এখানে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে প্রচুর পরিমানে ঘাস উৎপাদন হয়ে থাকে। তাই জমে উঠেছে গো-খাদ্য হিসেবে পরিচিত ঘাসের বাজার। উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তবে অসময়ে যমুনায় পানি বেড়ে নিচু এলাকার জমি ও বাড়ির আঙিনা তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় গো-খাদ্যের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। তাই বর্তমানে বিভিন্ন জাতের ঘাস উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এই এলাকার অনেকেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূঞাপুরের যমুনা নদীর তীরে নেংড়াবাজার, গোবিন্দাসী, মাটিকাটা, গাবসারা ও নিকরাইল সহ বিভিন্ন হাটে এ চিত্র দেখা গেছে। ভোর হতে না হতেই ঘাসের স্তুপ দেখা যায় এখানে। বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসেন ঘাস কিনতে। গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে পরিচিত ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার, দূর্বাঘাস, গর্বাঘাস, কাঁঠাল পাতা সহ আরও অনেক রকমের ঘাসের স্তুপ দেখা গেছে সেখানে।

যমুনা চরাঞ্চলের মানুষ এখন এ সব গোখাদ্য থেকেই আয়ের উৎস বের করার পথ খুঁজে পেয়েছেন। যমুনার তীরঘেষা এই সকল হাট একসময় টাটকা মাছের বাজার হিসেবে পরিচিত লাভ করলেও বর্তমানে ঘাসের বাজার হিসেবে গরু লালন-পালনকারী মানুষদের কাছে ঘাসের হাট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ভবিষ্যতে আরও পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঘাস ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

জানা যায়, ঘাসের এসব বাজারে প্রতিটি আঁটি আকার ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়ে থাকে। এক আঁটি কাঁঠাল পাতা ২০-৩০ টাকা, দুর্বাঘাস ৭০-৮০ টাকা, গর্বাঘাস ৭০-৮০ টাকা, নেপিয়ার ঘাস প্রকার ভেদে ৩০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। চরচিতুলীয়া পাড়া গ্রামের ঘাস বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন এই বাজারে অনেক মানুষ ঘাস কিনতে আসে। আমি প্রতিদিন ৬০০-৭০০ টাকা ঘাস বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছি। ঘাস বিক্রি করে বর্তমানে অনেক আয় হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রুলিপাড়া গ্রামের ঘাস বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে ঘাস কেটে প্রতিদিন এখানে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। যমুনার পানি বাড়ার কারণে ঘাস ডুবে যাওয়ায় একটু চিন্তায় আছি। কেননা ঘাস বিক্রি করেই এখন সংসার চলছে। ঘাস বিক্রেতা আনছের আলী জানান, আমরা গরিব মানুষ। ঘাস আর মাছ বিক্রির টাকায় আমাদের সংসার চলে। আমার লেখাপড়ার খরচও এখান থেকে চালাই। ঘাস পরিবহনে নিয়োজিত ভ্যান চালক স্বপন জানান, আমি ভ্যান নিয়ে প্রতিদিন এখানে চলে আসি। ঘাস পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছি। চরাঞ্চলে ঘাস চাষ ভালো হয়। এ কারণে এই ঘাটে ঘাস বিক্রিও হয় ভালো। তাই সকাল সকাল এখানে আসলে বিক্রি হওয়া ঘাস পৌঁছে দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫-৬’শ টাকা উপাজন করা যায়।

কাঁঠাল পাতা ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, গরু মহিষের ঘাসের চাহিদার পাশাপাশি ছাগল ভেড়ার ঘাসেরও বেশ চাহিদা রয়েছে। ছাগল ভেড়ার খাওয়ানোর জন্য বিভিন্ন ঘাসের পাশাপাশি কাঁঠাল পাতাও কিনে থাকে। তাই আমি প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বেশি পাতা সহ কাঁঠাল গাছ কিনে বাজারে পাতাগুলো বিক্রি করে থাকি। ঘাসের ক্রেতা রনি, সাহেব আলী ও আবুল কালাম জানান, আমি প্রায়ই এই ঘাসের বাজারে আসি। আজকে তিন আঁটি ঘাস কিনেছি ৯০ টাকা দিয়ে। এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে ঘাস কিনতে আসেন।

গোবিন্দাসী ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন চকদার বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন আসলে খুব কষ্টেকর। নদী তীরবর্তী এলাকার গো-খাদ্যের যোগান দিতেই মূলত ঘাসের বাজারগুলো গড়ে উঠেছে। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। প্রতিদিন চর থেকে ঘাস কেটে আঁটি বেধে তারা ঘাসের বাজারে এনে বিক্রি করছেন।

বাবু/জাহিদ






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy