
X
বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে যেসব ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে আসছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম রেলওয়ে মহা-পরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং পেশাগত দক্ষতা তাকে রেলওয়ে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন ১৯৬৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল জেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি মেধাবী ও অধ্যবসায়ী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এলাসিন তারক যোগেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি ও সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (RUET)। ১৯৯১ সালে তিনি প্রথম বিভাগে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)-এ মাস্টার্স অব আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (MURP) অধ্যয়নে অংশগ্রহণ তার জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিকে আরও দৃঢ় করে।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালের ২৫ এপ্রিল ১৩তম বিসিএসের প্রকৌশল ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ রেলওয়েতে সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। রেলওয়েতে যোগদানের পর তিনি মৌলিক প্রশিক্ষণ, চূড়ান্ত প্রশিক্ষণসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশ নেন, যা তার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করেছে।
রেলওয়ে কর্মজীবনে তিনি ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন—সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী, বিভাগীয় প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (পাকশী), প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) এবং সর্বশেষ মহাপরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। ঢাকার টঙ্গীতে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণ, খুলনা–মোংলা রেললাইন নির্মাণ, পদ্মা সেতু রেল সংযোগসহ অনেক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে তিনি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব প্রকল্প দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিকতার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
২০১৫ সালে রেলওয়ে সেবার মানোন্নয়ন ও আয় বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মাননা অর্জন করেন। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রেলওয়ে-সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে অর্জিত অভিজ্ঞতা তিনি দেশের রেল ব্যবস্থায় প্রয়োগ করেছেন।
ব্যক্তিজীবনে প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন একজন পরিবারমুখী মানুষ। তার সহধর্মিণী সৈয়দা রাশিদা হোসেন এবং তাদের দুই কন্যা ও এক পুত্র রয়েছে। বড় কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। ছোট কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগে অধ্যয়নরত এবং পুত্র রাইয়ান রাশীদ সেন্ট যোসেফ কলেজের ছাত্র।
রেলওয়ে প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময়ে তাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠলেও তিনি সেসব বিষয়ে শান্ত ও নীতিপরায়ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন। তার বক্তব্যে বরাবরই উঠে এসেছে কর্মে বিশ্বাস, সততা এবং ন্যায়নিষ্ঠার মূল্যবোধ। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা ধারণাগত ভিন্নতা নয়—সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করাই পেশাজীবনের মূল শক্তি।
বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে প্রকৌশলী মোঃ আফজাল হোসেন তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দূরদৃষ্টি ও দক্ষতার সমন্বয়ে আজও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।