বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী ভোটারদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের খরচ বহনের কথা বললেও বাস্তবে ব্যালট সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের নিজ পকেট থেকে অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
প্রবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস (Emirates Post) থেকে জানানো হয়েছে- ব্যালট পেপার বাসায় ডেলিভারি নিতে হলে ৩০ দিরহাম এবং পোস্ট অফিসের কোনো ব্রাঞ্চ থেকে সংগ্রহ করতে হলে ২০ দিরহাম ফি পরিশোধ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত খরচ কমিশন বহন করবে। কিন্তু প্রবাসী ভোটারদের অভিজ্ঞতা বলছে, সেই ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
একজন প্রবাসী ভোটার বলেন, “আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে টাকা দিয়ে ব্যালট সংগ্রহ করেছি। দেশে থাকতেও কখনো প্রার্থীর টাকা খেয়ে ভোট দেইনি। বরং নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ভোট দিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হলো- সব প্রবাসী কি এই বাড়তি খরচ ও ঝামেলা মেনে নেবে?”
প্রবাসীদের অনেকেই বিষয়টিকে নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয়ভাবে যখন বলা হয় ভোট প্রদানে কোনো খরচ হবে না, তখন বাস্তবে টাকা দিতে হওয়া নাগরিকদের সঙ্গে এক ধরনের অসঙ্গত আচরণ। একাধিক প্রবাসীর আশঙ্কা, এই অতিরিক্ত খরচ ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে অনেকেই ভোট প্রদানে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থানীয় পোস্টাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পোস্টাল চার্জ, ডেলিভারি ফি কিংবা বিকল্প সংগ্রহ ব্যবস্থার বিষয়ে আগেই পরিষ্কার নির্দেশনা না থাকায় প্রবাসীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যালট বিতরণ, আগাম পোস্টাল চার্জ পরিশোধ অথবা দেশভিত্তিক আলাদা গাইডলাইন থাকলে এই ভোগান্তি অনেকাংশে এড়ানো যেত।
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এর বাস্তবায়নে আরও স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।
দুবাই প্রবাসী কামরুল হাসান মন্তব্য করেন, “প্রবাসীরা দয়া করে ভোট দিচ্ছে না, তারা তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছে। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে যদি বারবার নিজের পকেট কেটে খরচ করতে হয়, তাহলে অনেকেই প্রশ্ন তুলবে- এই ব্যবস্থা আসলে কার জন্য?”
প্রবাসী ভোটাররা আশা করছেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং ভবিষ্যতে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ হবে হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচমুক্ত।