“বিবাদ নয়, সহায়তা; বিনাশ নয়, পরস্পরের ভাবগ্রহণ; মতবিরোধ নয়, সমম্বয় ও শান্তি” এই অমরবাণীকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় পালিত হয়েছে যুবনায়ক স্বামী বিবেকানন্দ’র ১৬৩ তম জন্মবার্ষিকী।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির নাট মন্দির প্রাঙ্গনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সভায় বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার শীলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বরুপ চন্দ্র ঘোষের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি এ্যাড. সোমনাথ ব্যানার্জী।
এসময় অথিতি ছিলেন, সাংবাদিক শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাশ, অধ্যক্ষ নির্মল কুমার দাশ, শ্রীমতি স্নিগ্ধা নাথ, শীলা রানী অধিকারী, রুবেল গাইন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, সারদা সংঘ সাতক্ষীরার সভাপতি শ্রীমতি কল্যাণী রায়।
এর আগে রামকৃষ্ণ মন্দির ও ধ্যানঘরে বিশেষ প্রার্থনা সভা ও মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষনা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দের উপর সঙ্গীত পরিবেশন করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তৃপ্তিমোহন মল্লিক।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, এক সময়ের তেজাদীপ্তাসীম মৃধাসম্পন্ন কর্মদক্ষ নরেন্দ্রনাথ দত্ত শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ১৮৮৬ সালে সন্যাস ব্রত লাভ করে স্বামী বিবেকানন্দ নাম ধারণ করেন। এর পর মাত্র ১৬ বছরের জীবদ্দশায় তিনি সনাতন ধর্ম প্রচার করেছেন বিশ্বব্যাপী। অনাহারে ও স্বল্পাহারক নিত্যসঙ্গী করে তিনি সারা ভারতবর্ষে পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেছেন। মাত্র ৩৯ বছর বয়সে এই ক্ষণজন্মা যুগাচার্য দেহত্যাগ করে রেখে গেছেন অমর বাণী। স্বামী বিবেকানন্দ ব্রম্মদত্যর সন্ধানে গাছের মগডালে চড়েছেন। তিনি বলেছেন ওঠো জাগো, লক্ষ্য না পৌঁছনো পর্যন্ত থেমো না। তিনি ধারন করেছেন ঈশ্বরের প্রেম, দেশ প্রেম ও মানবপ্রেম।
বক্তারা আরও বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ তরুণ যুবকদের শরীরচর্চার ওপর সমধিক গুরত্ব দিয়ে বলেছেন "বি অ্যান্ড মক" অর্থাৎ নিজেকে গঠন করো, অন্যকে গঠনে সাহায্য করো। নিজেকে যোগ্য করার বাণী দিয়েছেন তিনি।
আলোচনা শেষে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় শতাধীক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন সংগঠনে নেতৃবৃন্দ।