বকেয়া বিল চাওয়ায় সহকারী কর্মকর্তাকে পেটালেন উপজেলা কর্মকর্তা

    
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০ মাঘ ১৪৩২
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
বকেয়া বিল চাওয়ায় সহকারী কর্মকর্তাকে পেটালেন উপজেলা কর্মকর্তা
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৪ PM (Visit: 537)

সরকারি অফিসের চারদেয়ালের ভেতরেই অধস্তন কর্মকর্তাকে অকথ্য গালিগালাজ ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা দপ্তর প্রধানের বিরুদ্ধে। শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনে। বকেয়া বিল সংক্রান্ত মতপার্থক্যের জেরে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তার সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে-কে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ও বিচার দাবিতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিলো। এসময় অফিস সহকারী আল-ইমরান দপ্তরের বাজেট এবং বদলি হওয়া পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান সরকারের সময়ের কিছু বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়টি বর্তমান কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সামনে উপস্থাপন করেন।
কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সেই বিল পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করলে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও সুরাহার জন্য সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে-কে অনুরোধ করা হয়। পার্থ প্রতীম দে বিষয়টি নিয়ে বসের কক্ষে (উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা) কথা বলতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘আমি কি আগের স্যারের পিয়ন?’

ভুক্তভোগী পার্থ প্রতীম দে জানান, আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বিল বা ভাউচারগুলো যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি উত্তেজিত স্বরে বলেন, ‘‘আমি কি মো. আশিকুর রহমান সরকারের অফিস সহকারী নাকি যে তাকে ফোন করব?’’ এরপর তিনি সহকারী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে মা-বাবা তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় যেন কাল হলো সহকারী কর্মকর্তার। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবাদ করার সাথে সাথেই উত্তেজিত হয়ে কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম তার আসন ছেড়ে উঠে আসেন। এরপর অফিস সহকারী আল-ইমরান এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আশরাফুজ্জামান জুয়েলের সামনেই পার্থ প্রতীম দে-কে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।

এ হামলায় পার্থ প্রতীম দে-র বাম হাতের কনুই মারাত্মকভাবে জখম হয়ে ফুলে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে অফিসের অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং বরফ ও ঠান্ডা পানি দিয়ে প্রাথমিক সেবা দেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা শঙ্কা ঘটনার পর বিকেল ৬টার দিকে আহত পার্থ প্রতীম দে শেরপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘আমি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু এই ঘটনার পর আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অফিস প্রধানের এমন সহিংস আচরণে নকলা অফিসে চাকরি করা আমার জন্য প্রাণনাশের হুমকি স্বরূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা সরকারি চাকরিবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। অফিটাকে আমার পরিবার মনে করি। পরিবারের সদস্য হিসেবে আমি ধমকাধমকি করেছি। সহকারি নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে জেলা কর্মকর্তার কাছে অভাযোগ করেছেন। স্যার তদন্ত করে গেছে। তিনিই ব্যবস্থা নিবে।

শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নকলা উপজেলা নির্বাচন অফিসের ঘটনা আমি শুনে এবং লিখিত অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে যাই। যেটা ঘটেছে সেটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। জেলা পর্যায় থেকে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







  সর্বশেষ সংবাদ  


  সর্বাধিক পঠিত  


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো. আশরাফ আলী
কর্তৃক এইচবি টাওয়ার (লেভেল ৫), রোড-২৩, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।
মোবাইল : ০১৮৪১০১১৯৪৭, ০১৪০৪-৪০৮০৫৫, ই-মেইল : thebdbulletin@gmail.com.
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy