সালিশ বৈঠকে জুতাপেটা, অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাহমুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

সারাবাংলা

বিবাহিত এক তরুণীকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। সেখানে অভিযুক্ত যুবককে বিচারের সিদ্ধান্ত হয়।

2022-11-23T19:56:58+00:00
2022-11-23T19:56:58+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সালিশ বৈঠকে জুতাপেটা, অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা
মাহমুদ হাসান, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২, ৭:৫৬ পিএম   (ভিজিট : ২৯০)
X

বিবাহিত এক তরুণীকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার  অভিযোগে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। সেখানে অভিযুক্ত যুবককে বিচারের সিদ্ধান্ত হয়। চেয়ারম্যানের নির্দেশে যুবককে তার বাবাই জুতাপেটা করে। এই অপমানে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই যুবক। 

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নে। বুধবার (২৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আত্মহত্যার চেষ্টা করা ওই যুবকের নাম ইমরান ফরাজী (২৩)। সে মৌডুবি ইউনিয়নের মীরকান্দা ভাঙাখাল এলাকার কালাম ফরাজীর ছেলে। 

জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টায় এই সালিশ বৈঠক বসে মৌডুবি ইউনিয়ন পরিষদে। এতে চেয়ারম্যান ছিলেন প্রধান সালিশ।  সেখানে অভিযুক্ত যুবক ইমরানের বিচারের সিদ্ধান্ত হয়।  ইমরানের বাবাকে ছেলের বিচার করতে নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান । পরে বাবা জুতাপেটা করে ছেলেকে। এই অপমান সইতে না পেরে বাড়ি এসে বিষপান (কীটনাশক) করে ইমরান। গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন। 

আত্মহত্যার চেষ্টা করা ইমরানের বাবা কালাম ফরাজী বলেন, 'মেয়ে বলে আমাকে গালিগালাজ করে। আর ছেলে বলে এক বছর ধরে তার সাথে মেয়ের কোন কথাই হয় না। ওই মেয়ে চেয়ারম্যানের নাতনি। আমি সালিশিতে কিছু বলিনি সব হেরাহেরা (তারা তারা)। চেয়ারম্যান বলছে বিচার করতে। আমি জুতা দিয়া দুইটা বাড়ি দিছি। বিচার শেষে চেয়ারম্যান বলছে আপনার ছেলে সামনের দিকে কোন অন্যায় করলে আপনার এক লাখ টাকা জরিমানা আর ছেলেরে কফিতে টানাবো। আর মেয়ের বাবারে বলছে তুমি কিছু করলে তোমারে পুলিশে দিয়া দিমু।' 

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকা মৌডুবি ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য তুহিন মিয়া বলেন, একসময় মেয়েটির সঙ্গে ছেলেটার সম্পর্ক ছিল। ছয় মাস আগে এক প্রবাসীর সঙ্গে ওই মেয়ের বিয়ে হয়।  ওই ছেলে (প্রেমিক) ঢাকা চলে যায়। কিছুদিন আগে আবার এলাকায় আসে সে। বিবাহিত মেয়েটাকে উত্যক্ত করতে থাকে। মঙ্গলবার দুপুরে মেয়েকে উত্যক্ত ও অশ্লীল কথা বলায় তাদের (ছেলে-মেয়ে) মধ্যে ঝগড়াঝাটি এবং মারামারি  হয়। এনিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দেয় মেয়ের পরিবার। চেয়ারম্যানের উপস্থিতি এটার ফয়সালা হয়েছে। সালিশির বিচারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানই বলছে আপনি আপনার ছেলের শাসন করেন। ছেলের বাবাই ছেলের শাসন করছে। জুতা দিয়া দুই-তিনটা বাড়ি দিছে। তারপরে ছেলেটা বাড়িতে এসে কীটনাশক ঔষধ খাইছে৷ 

জানতে চাইলে মৌডুবি ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান রাসেল বলেন, ঘটনা মেয়েলি সংক্রান্ত। মেম্বারে ওর (যুবক) বাবার হাতে বিচার দিছে। ওর বাবা বিচার করছে। এরপর ছেলে এখান থেকে বের হয়ে এই ঘটনা ঘটাইছে। অভিমান করছে মনেহয় বাবার সাথে। এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এবিষয়ে  আমরা তদন্ত করবো।  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

বাবু/জেএম 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy