দীর্ঘ আট বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আবারও ভুট্টার চালান আসতে শুরু করেছে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা বাংলাদেশে প্রবেশ করায় একে বাণিজ্যিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর একটি ঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভুট্টার চালান খালাস কার্যক্রম শুরু হয়।
এ উপলক্ষে ঘাটে ‘দ্যা রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট। তিনি বলেন, আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৃষি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই ভুট্টা রপ্তানি শুরু হয়েছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র মানসম্মত ভুট্টা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়।
এই চালানে মোট ৫৭ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন উচ্চমানের ভুট্টা আমদানি করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যে উৎপাদিত। এরিন কোভার্ট জানান, এটি প্রাথমিক চালান হলেও ভবিষ্যতে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ভুট্টা সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। ভুট্টাগুলো ২০২৫–২৬ ফসল মৌসুমে উৎপাদিত।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুট্টার এই চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে এমভি বেলটোকিও নামের জাহাজে করে পাঠানো হয়। জাহাজটি ৩১ ডিসেম্বর কুতুবদিয়া পৌঁছায়। সেখান থেকে ছোট আকারের লাইটার জাহাজে করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াপাড়ার বিভিন্ন গন্তব্যে ভুট্টা পাঠানো হচ্ছে। বুধবার যে লাইটার জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়, তাতে প্রায় আড়াই হাজার টন ভুট্টা ছিল।
এই ভুট্টা রপ্তানি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন (ইউজিসি)। বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী তিনটি প্রতিষ্ঠান—নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ (১০ হাজার টন), প্যারাগন গ্রুপ (১৯ হাজার টন) এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড (২৯ হাজার টন)—এই চালান আমদানি করেছে।
অনুষ্ঠানে নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, বাংলাদেশে ভুট্টার মোট চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হয়, বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আগে মূলত ভারত ও ব্রাজিল থেকে দ্রুত সরবরাহের কারণে ভুট্টা আনা হতো। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আনতে সাধারণত ৪৫–৪৬ দিন সময় লাগে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ লোডিং পয়েন্টে সহযোগিতা করায় সময়মতো চালান এসেছে।
তিনি আরও জানান, প্রতি টন ভুট্টার দাম পড়েছে প্রায় ২৪৬ মার্কিন ডলার, যা ব্রাজিল থেকে আমদানির দামের কাছাকাছি। ভবিষ্যতে সময় কিছুটা বেশি লাগলেও উন্নত মান ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই ভুট্টা আমদানিতে আগ্রহী থাকবেন তারা।
অনুষ্ঠানে অন্য দুই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশের পশুখাদ্য শিল্পে প্রাণী পুষ্টির একটি নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা নতুনভাবে জায়গা করে নেবে।