ককটেল বানাতে গিয়ে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণে ৫ জন গ্রেফতার

    
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০ মাঘ ১৪৩২
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
ককটেল বানাতে গিয়ে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণে ৫ জন গ্রেফতার
জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০২ PM (Visit: 539)

শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুরে ককটেল বোমা বানাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় জাজিরা থানায় দায়ের করা মামলার পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার (১৩-জানুয়ারি) দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে শরীয়তপুর থেকে চারজনকে র‍্যাব-৮ ও ঢাকা থেকে একজনকে র‍্যাব-১০ গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগে এই মামলার দুইজন এজাহার নামীয় ও তিনজন মহিলাসহ চারজন অজ্ঞাতনামা আসামিকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার করে শরীয়তপুর আদালতে চালান করা হয়েছে।


মঙ্গলবার র‍্যাব কর্তৃক গ্রেফতারকৃতরা হলেন জাজিরা থানার পুলিশ বাদী (০৯-জানুয়ারি)'র ১০ নং মামলার ০২ নং আসামি ছিদাম বেপারী(৪০), ১৩ নং আসামি সুজন সরদার(৩২), ১৬ নং আসামি রনি ভূঁইয়া(৩০), ১৭ নং আসামি মমিন ভূঁইয়া(২২) ও ১৯ নং আসামি মাহমুদুল বেপারী(৩২)। তারা সবাই চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও তাজেল ছৈয়ালের সমর্থক, এই গ্রুপটির বর্তমান অর্থদাতা হচ্ছেন জান খাঁর কান্দির কালাচান খার ইতালি প্রবাসী ছেলে রাসেল। ১৭ নং আসামি মমিন ভূঁইয়া ঢাকায় এবং বাকিরা শরীয়তপুরে গ্রেফতার হয়। যার মধ্যে ০২ নং ছিদাম বেপারী চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর আপন ছোটভাই।


উল্লেখ্যঃ গত (০৮-জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার ভোরে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর আপন ভাই ও ০১ নং আসামি নুর ইসলাম বেপারী(৪২) এর বাড়ির সাথেই নবনির্মিত একটি টিনের ঘরে ককটেল বোমা বানাতে গিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই সোহান নামের এক ককটেল কর্মী, নবীন নামের অপর এক ককটেল কর্মী ওইদিনই ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং নয়ন নামের আরও একজন ককটেল কর্মী (১৩-জানুয়ারি) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।


ওই ঘটনায় পরদিন (০৯-জানুয়ারি) রাতে জাজিরা থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনের নামে ১০ নম্বরের একটি মামলা দায়ের করেন। যেখানে অজ্ঞাত আরও অন্তত ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। যদিও এই ঘটনায় এতো আসামি দেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে আসামি নির্ধারণ নিয়ে। চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারীর প্রতিপক্ষের জলিল মাদবর গ্রুপের অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ককটেল বোমা বানাতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটলেও তাদেরই প্রায় ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে ওই মামলায়। পুলিশ বলছে, আমরা তদন্তে যাচাই-বাছাই শেষে এদের সংশ্লিষ্টতা না পেলে অব্যাহতির সুপারিশ দিবো।


অন্যদিকে ঘটনা পরবর্তী দুইদিনে বিলাসপুর থেকে দুইজনকে গ্রেফতারের পরে ওই মামলায় তাদের আসামি করা হয় এবং (১২-জানুয়ারি) যৌথ বাহিনীর ডগ স্কোয়াড নিয়ে অভিযানে ৪৫ টা ককটেল বোমার পাশাপাশি বেশ কিছু ককটেল বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এসময়, একজন পুরুষের পাশাপাশি তিনজন মহিলাকেও গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। যাদেরকে উক্ত মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে চালান দেয়া হয়। এখানেও একজন মহিলা প্রতিপক্ষের জলিল মাদবর গ্রুপের সমর্থক পরিবারের বলে তাদের দাবি।


র‍্যাব কর্তৃক গ্রেফতার আসামিদের জাজিরা থানায় পাঠিয়ে দেয় র‍্যাব। বিষয়টি নিশ্চিত করে জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে। শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ক্রাইম এন্ড অপস তানভীর হোসেন প্রতিপক্ষের লোকজনকে আসামি করার বিষয়ে তারা জানতেন না দাবি করে বলেন, পিসিপিআর যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদেরকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তে এই ঘটনায় তারাসহ আরও যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে না, আমরা তাদেরকে তদন্ত শেষে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন প্রদান করবো। এছাড়াও বিলাসপুরের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে যেকোনো পদক্ষেপের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান।







  সর্বশেষ সংবাদ  


  সর্বাধিক পঠিত  


এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো. আশরাফ আলী
কর্তৃক এইচবি টাওয়ার (লেভেল ৫), রোড-২৩, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।
মোবাইল : ০১৮৪১০১১৯৪৭, ০১৪০৪-৪০৮০৫৫, ই-মেইল : thebdbulletin@gmail.com.
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy