বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় আমন ধান ও সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত

শেরপুর প্রতিনিধি

সারাবাংলা

গত তিনদিন ধরে চলমান অব্যাহত মাঝারি বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেরপুরে উঠতি আমন ধান ও সবজি খেতের

2025-11-03T10:59:08+00:00
2025-11-03T10:59:08+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় আমন ধান ও সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৯ এএম   (ভিজিট : ১০৪)
X

গত তিনদিন ধরে চলমান অব্যাহত মাঝারি বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেরপুরে উঠতি আমন ধান ও সবজি খেতের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ধানগাছ ও শাক-সবজির চারা হেলে পড়েছে। সেইসঙ্গে বৃষ্টির আগে কেটে রাখা ধানগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শেরপুর জেলায় ৯৩ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় আমন ধানের ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু গত দুইদিনের অব্যাহত বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ধান খেতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং ধানগাছগুলো মাটিতে হেলে পড়েছে। নিচু এলাকার অনেক খেতের ধানগাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ঘরে ফসল তোলার আগ মুহূর্তে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক কৃষক দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগছেন।

সদর উপজেলার মধ্যবয়ড়া গ্রামের কৃষক ফকির আলী বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই আমন ধানের কাটা-মাড়াই শুরু হবে। তার আগে খারাপ আবহাওয়া শুরু হয়েছে। বাতাসে পাকা ধানগাছগুলো হেলে পড়েছে, নষ্ট হচ্ছে কেটে রাখা ধানগুলো। জমিতে পানি জমে গেছে। ধান ঝরে যাচ্ছে। এখন ফসল কেটে ঘরে তোলা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এই আবহাওয়ার কারণে শ্রমিক খরচও বেড়ে গেছে। অতিবৃষ্টির ফলে এখন ধান কেটে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরী গ্রামের কৃষক কবির জানান, এই অবস্থায় ধান কেটে নিলেও শুকানো যাবে না। ফলে ভেজা ধান ঘরে তোলা মুশকিল হবে। রোদ না ওঠলে কিছুদিন এভাবে থাকলে আমন ধান আবাদ করতে যে টাকা খরচ করেছেন তা ওঠাতে পারবেন না। আবাদের লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হবে না বলে আশঙ্কা রয়েছে।

শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছর ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তাঁদের আমন আবাদ সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছিল এবং আর্থিকভাবে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু অসময়ে বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিচু জমির ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধান সঠিকভাবে ঘরে তুলতে না পারলে সামনের দিনগুলোয় সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেরপুরে শনি ও রবিবার যথাক্রমে ১৩৫ মিলিমিটার ও ১০ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে সিলেট ও ময়মনসিংহবিভাগে এবং সংলগ্ন উজানে ভারতের প্রদেশসমূহে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনিসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার আমন আবাদ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে, জেলায় ৩০ হেক্টর জমির আমন আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর শাক-সবজি ও আলুর আবাদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫ হেক্টর জমিতে। তবে আর বৃষ্টি না হলে এবং রোদ ওঠে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। এছাড়া সামনে প্রণোদনা কর্মসূচি এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy