শেরপুরের নকলায় ৬ বছরের কন্যা সন্তান মরিয়মকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পিতা বাবুর বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে উপজেলার চরঅস্টধর ইউনিয়নের চরবসন্তী পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় তার সাড়ে তিন বছর বয়সী আরেক কন্যা মীম গুরুতর আহত হয়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহত শিশুর নানা কাজিমদ্দিন জানায়, প্রায় সাত বছর আগে মেয়ে হাসিনাকে বাবু মিয়ার সঙ্গে বিয়ে দেন। বাবু ঢাকায় অটোরিক্সা চালিয়ে সংসার চালাতেন। সেখানে বেশ কিছু টাকা ঋণ করে। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য গত সপ্তাহে ঢাকায় অবস্থান শেষে সোমবার বাবু মিয়া স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের শালখা গ্রামে আসেন। মঙ্গলবার তিনি আমার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তাকে ৩ হাজার টাকা দিতে পারলেও বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাই। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবু মিয়া দুই সন্তান মরিয়ম ও মীমকে নিয়ে নিজ বাড়ি চর বসন্তীতে চলে যান।
পরদিন বুধবার তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে আবার ঢাকায় চলে যান। এরপর শনিবার ঢাকা থেকে শিশু দু’জনকে নিয়ে পুনরায় শ্বশুরবাড়ি শালখা গ্রামে যান। সেখানে পারিবারিক কলহ ও রাগারাগির একপর্যায়ে বিকেলে দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়ি চর বসন্তীতে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও রাগের জেরে রবিবার সকালে বাবু মিয়া বড় মেয়ে মরিয়মকে গলা চেপে হত্যা করেন। এ সময় ছোট মেয়ে মীমও গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত শিশুটিকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযুক্ত বাবা বাবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবা (নিজতের দাদা) রবি মিয়াকেও আটক করে।
এই ঘটনার বিষয়ে চরঅষ্টধর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুলাল বলেন, আমি যতটুকু জানি পারিবারিক কোনো সমস্যা কারণে এটা ঘটনা বিস্তারিত আমিও জানার চেষ্টা করছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত বাবা বাবু মিয়াকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।